TDS কাটলেই লাগবে TAN! নিয়ম না মানলে বড় জরিমানার মুখে ব্যবসায়ী ও সংস্থা

ভারতে কর ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দুই গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হল PAN এবং TAN। PAN সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা থাকলেও TAN নিয়ে এখনও অনেক ব্যবসায়ী, অফিস কর্তৃপক্ষ কিংবা ছোট সংস্থার মধ্যে স্পষ্ট ধারণা নেই। অথচ নিয়ম না মানলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।

আয়কর দফতরের নিয়ম অনুযায়ী, কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা যদি অন্য কারও আয়ের উপর কর কেটে সরকারের কাছে জমা দেয়, তাহলে তাদের জন্য TAN নেওয়া বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ TDS (Tax Deducted at Source) বা TCS (Tax Collected at Source) কাটার ক্ষেত্রে TAN ছাড়া কাজ করা আইনবিরুদ্ধ।

PAN ও TAN-এর মধ্যে পার্থক্য কী?

PAN মূলত ব্যক্তিগত বা প্রতিষ্ঠানের আয়কর সংক্রান্ত পরিচয় নম্বর। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা, বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেন বা আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে PAN প্রয়োজন হয়।

অন্যদিকে TAN ব্যবহার করা হয় তখনই, যখন কোনও ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অন্য কারও আয় থেকে কর কেটে তা সরকারের কাছে জমা দেয়। অর্থাৎ PAN নিজের কর সংক্রান্ত পরিচয়, আর TAN হল কর কাটার অনুমোদিত নম্বর।

কারা TAN নিতে বাধ্য?

আয়কর আইনের আওতায় বেশ কিছু ক্ষেত্রে TAN নেওয়া বাধ্যতামূলক বলে ধরা হয়েছে—

যে সব ব্যবসায়ী বা কোম্পানি কর্মচারীদের বেতন থেকে TDS কাটে

কনট্রাক্টর, পেশাদার পরিষেবা, কমিশন বা ভাড়ার টাকা থেকে কর কাটে এমন সংস্থা

ব্যাঙ্ক, স্কুল, সরকারি অফিসের মতো প্রতিষ্ঠান

ট্রাস্ট বা NGO, যারা নির্দিষ্ট আর্থিক লেনদেনে কর কাটে

অফিস বা বাণিজ্যিক সম্পত্তির ভাড়ার ক্ষেত্রে যেখানে TDS প্রযোজ্য

তবে শুধুমাত্র বেতন পাওয়া বা নিজের আয়কর দেওয়ার জন্য TAN প্রয়োজন হয় না। সেই ক্ষেত্রে PAN থাকলেই যথেষ্ট।

TAN না থাকলে কী হতে পারে?

আয়কর আইনের সেকশন 203A অনুযায়ী, TAN ছাড়া TDS কাটা বা রিটার্ন জমা দিলে জরিমানা হতে পারে। নিয়ম ভাঙলে প্রতিদিনের ভিত্তিতে জরিমানা ধার্য হতে পারে এবং তা দ্রুত বড় অঙ্কে পৌঁছাতে পারে।

এছাড়া TAN না থাকলে Form 16 বা Form 16A ইস্যু করা যায় না। ফলে যাঁদের টাকা থেকে TDS কাটা হয়েছে, তাঁদের ট্যাক্স রিফান্ড বা রিটার্ন প্রক্রিয়াতেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

কীভাবে TAN-এর জন্য আবেদন করবেন?

বর্তমানে অনলাইনে খুব সহজেই TAN-এর জন্য আবেদন করা যায়।

প্রথমে NSDL-এর পোর্টালে গিয়ে Form 49B পূরণ করতে হয়। সেখানে আবেদনকারীর ধরন, নাম, ঠিকানা ও AO কোডের মতো তথ্য দিতে হয়। ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি অ্যাকনলেজমেন্ট নম্বর পাওয়া যায়।

এরপর প্রয়োজনীয় নথি ও স্বাক্ষরসহ আবেদনপত্র নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠাতে হয়। নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়। সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই TAN নম্বর ইস্যু করা হয়।

আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

একটি TAN দিয়েই বিভিন্ন ধরনের TDS জমা দেওয়া যায়

TAN নেওয়ার পর নিয়মিত TDS রিটার্ন জমা দিতে হয়

PAN এবং TAN আলাদা পরিচয়পত্র, তাই একে অপরের সঙ্গে লিঙ্ক করার প্রয়োজন নেই

বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ব্যবসা বা অফিস হলেও যদি কর্মচারীদের বেতন থেকে কর কাটা হয়, তাহলে দ্রুত TAN নেওয়া উচিত। কারণ নিয়ম না মানলে আইনি জটিলতা ও আর্থিক ক্ষতির সম্ভাবনা থেকেই যায়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক