কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন ২০২৬ সালের বাজেটে আয়করের হার অপরিবর্তিত রেখেছেন। নতুন আয়কর ব্যবস্থা এখন ডিফল্ট হলেও, তাতে করের হার তুলনামূলক কম হলেও বেশিরভাগ প্রচলিত ছাড়ের সুবিধা নেই। অন্যদিকে, পুরোনো কর ব্যবস্থায় করের হার কিছুটা বেশি হলেও একাধিক ছাড় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে করযোগ্য আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
এদিকে, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হতে চলেছে আয়কর আইন, ২০২৫। ফলে ৩১ মার্চের মধ্যে চলতি আর্থিক বছরের কর পরিকল্পনা সঠিকভাবে সম্পন্ন করাই এখন করদাতাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
কেন ৩১ মার্চ এত গুরুত্বপূর্ণ?
ভারতে আর্থিক বছর শেষ হয় ৩১ মার্চ। এই তারিখের মধ্যেই—
কর সাশ্রয়ী বিনিয়োগ করতে হয়
ছাড়ের জন্য যোগ্য খরচ পরিশোধ করতে হয়
অগ্রিম করের দায় মেটাতে হয়
সময় পেরিয়ে গেলে বাড়তি করের পাশাপাশি জরিমানার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
নতুন না পুরোনো কর ব্যবস্থা—কোনটা বেছে নেবেন?
নতুন কর ব্যবস্থা:
করের হার কম, ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয় করমুক্ত, কিন্তু ৮০সি, ৮০ডি, HRA-এর মতো ছাড় নেই।
পুরোনো কর ব্যবস্থা:
করের হার বেশি, তবে বিভিন্ন ধারার ছাড় নিয়ে মোট কর অনেকটাই কমানো যায়।
যাঁরা ছাড়ের সুবিধা নিতে চান, তাঁদের জন্য পুরোনো কর ব্যবস্থাই বেশি লাভজনক।
ধারা ৮০সি: কর সাশ্রয়ের মূল অস্ত্র
পুরোনো কর ব্যবস্থায় ধারা ৮০সি-র অধীনে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। এর মধ্যে রয়েছে—
EPF
PPF
ELSS মিউচুয়াল ফান্ড
জীবন বিমার প্রিমিয়াম
গৃহঋণের মূলধন পরিশোধ
সন্তানের টিউশন ফি
শেষ মুহূর্তে PPF বা ELSS-এ বিনিয়োগ করলেও কর বাঁচানো সম্ভব।
স্বাস্থ্য বিমায় দ্বিগুণ সুবিধা
ধারা ৮০ডি অনুযায়ী—
নিজের ও পরিবারের জন্য: সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা
বাবা-মায়ের জন্য: অতিরিক্ত ২৫,০০০ টাকা
বাবা-মা প্রবীণ নাগরিক হলে: ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত
তবে প্রিমিয়াম অবশ্যই ৩১ মার্চের আগে পরিশোধ করতে হবে।
গৃহঋণ থাকলে বাড়তি ছাড়
ধারা ২৪(বি): সুদের উপর সর্বোচ্চ ২ লক্ষ টাকা
ধারা ৮০সি: মূলধন পরিশোধের ছাড়
NPS-এ বাড়তি কর সাশ্রয়
জাতীয় পেনশন সিস্টেমে বিনিয়োগ করলে ধারা ৮০সিসিডি(১বি)-এর অধীনে অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা ছাড় পাওয়া যায়, যা ৮০সি সীমার বাইরেও প্রযোজ্য।
দান ও মূলধনী লাভের হিসাব
অনুমোদিত দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করলে ধারা ৮০জি-তে ছাড়
সম্পত্তি বা শেয়ারের দীর্ঘমেয়াদি লাভ ৫৪ইসি বন্ডে বিনিয়োগ করে করমুক্ত করা সম্ভব
মূলধনী ক্ষতি লাভের সঙ্গে সমন্বয় বা ভবিষ্যতে বহন করা যায়
বেতনের ছাড় ও নথিপত্র গুছিয়ে রাখুন
HRA, LTA, খাবারের কুপন, ইন্টারনেট বিল—যেগুলি প্রযোজ্য, সব দাবি করা জরুরি। পাশাপাশি বিনিয়োগের রসিদ ও নথিপত্র গুছিয়ে রাখলে ভবিষ্যতে কর ফাইল করার সময় ঝামেলা কমবে।
সংক্ষেপে বলা যায়, বাজেটে নতুন ছাড় না মিললেও ৩১ মার্চের আগে সঠিক পরিকল্পনা করলে করের বোঝা অনেকটাই কমানো সম্ভব। সময় থাকতেই সিদ্ধান্ত নেওয়াই বুদ্ধিমানের।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.