পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের মহাপ্রসাদ শুধু ধর্মীয় বিশ্বাসের অংশ নয়, বরং বহু শতাব্দীর খাদ্যসংস্কৃতিরও এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। সেই মহাপ্রসাদের অন্যতম আকর্ষণ হল ‘টঙ্কা তোরানি’, একটি ঐতিহ্যবাহী টক-ঝাল পানীয়। বিশেষ করে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে বা রথযাত্রার সময় এই পানীয় ভক্তদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়।
প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, বহু শতাব্দী ধরে জগন্নাথদেবের ভোগে এই পানীয় নিবেদন করা হয়ে আসছে। মন্দিরে নিবেদিত ভাতের একটি অংশ জল দিয়ে নির্দিষ্ট সময় জারিত করে এই পানীয় তৈরি করা হয়। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও এর মূল প্রস্তুত প্রণালী প্রায় একই রয়েছে।
কেন বিশেষ এই পানীয়?

‘টঙ্কা তোরানি’-র স্বাদ সাধারণ শরবতের মতো মিষ্টি নয়। এতে থাকে টক, ঝাল ও মশলার অনন্য সংমিশ্রণ। গরমে শরীরে জলের ঘাটতি পূরণে এটি সহায়ক বলে মনে করা হয়। জারিত ভাত ব্যবহার হওয়ায় এতে প্রাকৃতিকভাবে উপকারী ব্যাকটেরিয়া বা প্রোবায়োটিক তৈরি হতে পারে, যা হজমে সহায়তা করে। পাশাপাশি শরীরকে সতেজ রাখতেও এই পানীয়ের ভূমিকা রয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
*১ কাপ সেদ্ধ ভাত
*৩ টেবিলচামচ টক দই
*১ ইঞ্চি আমআদা
*১০টি লেবুপাতা
*১২–১৫টি কারিপাতা
*৫টি কাঁচালঙ্কা
*পাতিলেবুর রস
*কাগজি লেবুর টুকরো
*ভাজা জিরে গুঁড়ো
*স্বাদমতো লবণ
*প্রয়োজনমতো পানীয় জল
প্রস্তুত প্রণালী
প্রথমে সেদ্ধ ভাত পর্যাপ্ত জলে ডুবিয়ে ঢেকে প্রায় ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন, যাতে তা স্বাভাবিকভাবে জারিত হয়। এরপর ভাত ও সেই জল একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। তাতে টক দই, পাতিলেবুর রস, ভাজা জিরে গুঁড়ো ও লবণ যোগ করুন।
অন্যদিকে আমআদা, কাঁচালঙ্কা, লেবুপাতা ও কারিপাতা একসঙ্গে থেঁতো করে ভাতের মিশ্রণে মিশিয়ে দিন। এরপর ধীরে ধীরে প্রয়োজনমতো জল মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়ুন, যাতে কোনও দলা না থাকে। সবশেষে কাগজি লেবুর টুকরো যোগ করলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
ধর্মীয় গুরুত্ব ও গ্রীষ্মের পানীয়
পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে এই পানীয় মহাপ্রসাদ হিসেবে নিবেদন করা হলেও, ওড়িশার বহু মানুষ গরমের দিনে এটি ঘরেও তৈরি করে পান করেন। রথযাত্রার সময়ও এর জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি গ্রীষ্মে শরীরকে সতেজ রাখতে এই প্রাচীন পানীয় আজও সমানভাবে সমাদৃত।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.