নারীজীবনের এক স্বাভাবিক অথচ চ্যালেঞ্জিং পর্যায় ‘মেনোপজ’। এই সময়টায় শরীরের হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে দেখা দেয় নানা শারীরিক ও মানসিক ওঠাপড়া। ঋতুচক্র থেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইস্ট্রোজেনের ক্ষরণ কমে যায়, যার ফলে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি, মেজাজের পরিবর্তন, ঘুমের ব্যাঘাত থেকে শুরু করে অস্থিসন্ধির সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এই বদলগুলোর সঙ্গে লড়াই যেন প্রতিটি নারীর নিত্যসঙ্গী। এবার সেই অভিজ্ঞতার কথাই প্রকাশ্যে তুলে ধরলেন অভিনেত্রী-লেখক টুইঙ্কল খান্না।
সম্প্রতি টাইমস অফ ইন্ডিয়া-য় প্রকাশিত একটি কলামে টুইঙ্কল নিজের মেনোপজ-যাত্রার অভিজ্ঞতা candid ভাবে লিখেছেন। অক্ষয় কুমারের স্ত্রী ও জনপ্রিয় কলামিস্ট ‘মিসেস ফানিবোনস’ নামে পরিচিত টুইঙ্কল জানিয়েছেন, তিনি সবসময় ভেবেছিলেন পঞ্চাশের কাছাকাছি বয়স মানেই নিজের পরিচয়কে নতুন করে খুঁজে পাওয়া। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই সময়টা যেন ‘হরমোন হারানোর’ প্রকৃত পরীক্ষা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ব্যাখ্যানুসারে, মেনোপজ মূলত তখনই ঘটে যখন ডিম্বাশয়ের ফলিকুলার ফাংশন কমে গিয়ে ডিম্বাণু উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ঠিক এই সময় থেকেই শরীরের ওপর নেমে আসে বিভিন্ন লক্ষণ—হট ফ্ল্যাশ, অনিদ্রা, রাতের ঘাম, অনিয়মিত পিরিয়ড ইত্যাদি। টুইঙ্কলের কথায়, এই সবকিছু নিয়েই তাকে নিয়মিত কাজ করতে হচ্ছে, যা খুব সহজ নয়।
তাঁর অভিজ্ঞতাকে তুলনা করতে গিয়ে টুইঙ্কল একটি রসিক উপমা টানেন। তিনি মেনোপজকে তুলনা করেছেন এমন এক ‘চোর’-এর সঙ্গে, যে শুধু আলমারি খালি করেই পালায় না, বরং নিজের মর্জিমতো ঘরের আসবাবপত্রও পাল্টে সাজিয়ে যায়। তাঁর শরীরে এখন দেখা দিচ্ছে অতিরিক্ত গরম লাগা, রাতের ঘাম, হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়া, ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া এবং থুতনিতে নতুন করে চুল গজানোর মতো লক্ষণ—যা তাঁকে বিব্রত করছে।
এমনকি জীবনে প্রথমবার পুরুষদের প্রতি কিছুটা ‘হিংসাও’ বোধ করছেন টুইঙ্কল। কারণ তাঁর ভাষায়—তিনি যেখানে সামান্য শব্দেই ঘুম হারান, সেখানে তাঁর স্বামী অক্ষয় কুমার জোরালো আওয়াজ, নির্মাণস্থলের শব্দ কিংবা উৎসবের বাজির মধ্যেও নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে থাকতে পারেন। “পুরুষদের হরমোন যেন কখনোই তাদের পরিত্যাগ করে না,”—মনে করেন তিনি।
টুইঙ্কল আরও লেখেন, তাঁর স্বামী ভুলে যাওয়া, হঠাৎ আবেগপ্রবণ হওয়া বা অকারণে রেগে যাওয়ার মতো সমস্যায় ভোগেন না। অথচ মেনোপজে তাঁর নিজের শরীর যেন একটা আলাদা টিম—যা তাকে না জানিয়ে নিজের মতো কাজ করছে। “ঘামের জন্য এখন আর কার্ডিও করতে হয় না, আর রাগ করার জন্য উস্কানির প্রয়োজন নেই”—হাস্যরস মেশানো তীব্র বাস্তবতায় লিখেছেন তিনি।
শেষে পাঠকদের উদ্দেশে তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, মেনোপজ কোনও লজ্জার বিষয় নয়, বরং প্রতিটি নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ নিয়ে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন। অবশ্যই কোনও শারীরিক পরিবর্তন বা জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
FAQ
1. মেনোপজ কী?
মেনোপজ হলো নারীদের ঋতুচক্র স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার শারীরবৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
আরও পড়ুন
অনুষ্কা শর্মার ‘চাকদা এক্সপ্রেস’ – নেটফ্লিক্সে যেতে পারে? অপেক্ষার মধ্যে ক্রিকেট বায়োপিক
2. সাধারণত কোন বয়সে মেনোপজ হয়?
বেশিরভাগ নারীর ক্ষেত্রে ৪৫–৫৫ বছরের মধ্যে।
3. মেনোপজ হওয়ার প্রধান কারণ কী?
ডিম্বাশয়ের হরমোন উৎপাদন, বিশেষ করে ইস্ট্রোজেনের ক্ষরণ কমে যাওয়াই প্রধান কারণ।
4. টুইঙ্কল খান্না কেন হঠাৎ মেনোপজ নিয়ে লিখলেন?
নিজের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও লড়াই পাঠকদের সঙ্গে ভাগ করে সচেতনতা বাড়ানোর জন্য।
5. মেনোপজে কেন শরীর গরম লাগে বা হট ফ্ল্যাশ হয়?
হরমোনগত পরিবর্তনের কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হয়।
6. মেনোপজে ঘুমের ব্যাঘাত কি স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, হরমোন কমে যাওয়ার ফলে অনিদ্রা বা রাতের ঘাম দেখা দিতে পারে।
7. টুইঙ্কল মেনোপজকে ‘চোর’-এর সঙ্গে তুলনা করলেন কেন?
কারণ মেনোপজ তাঁর শরীর-মনকে অগোচরে বদলে দিয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নিয়েছে।
8. মেনোপজের সময় কি হাড় ক্ষয় হতে পারে?
হ্যাঁ, ইস্ট্রোজেন কমে যাওয়ার ফলে বোন ডেনসিটি কমে যেতে পারে।
9. মেনোপজে মেজাজ বদলানো কি সাধারণ লক্ষণ?
অবশ্যই। হরমোনের পরিবর্তন মানসিক চাপ ও মুড সুইং বাড়ায়।
10. টুইঙ্কল কেন পুরুষদের ‘ঈর্ষা’ করেন বলেছেন?
কারণ তাঁর মতে পুরুষদের হরমোন এমন তীব্র ওঠানামা করে না এবং তারা সহজে ঘুমাতে পারেন।
11. মেনোপজে কি থুতনিতে চুল গজানো স্বাভাবিক?
হ্যাঁ, হরমোনাল ভারসাম্য বদলে গেলে মুখে নতুন চুল দেখা দিতে পারে।
12. মেনোপজ হলে কি পিরিয়ড সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়?
হ্যাঁ, এক বছরের বেশি সময় পিরিয়ড না হলে সেটিই মেনোপজ ধরা হয়।
13. মেনোপজের লক্ষণ কমানোর উপায় কী?
স্বাস্থ্যকর খাদ্য, ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শ।
14. মেনোপজ কি মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে?
হ্যাঁ, উদ্বেগ, দুঃখ, বিরক্তি ও আবেগপ্রবণতা দেখা দিতে পারে।
15. মেনোপজ পরিস্থিতিতে কখন ডাক্তার দেখানো জরুরি?
অতিরিক্ত রক্তপাত, তীব্র ব্যথা, অস্বাভাবিক দুর্বলতা বা দীর্ঘমেয়াদি ডিপ্রেশনের লক্ষণ দেখা দিলে।
#MenopauseAwareness
#TwinkleKhanna
#HealthNews

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.