জাপানে বহুদিনের একটি সামাজিক রীতি হল, বাইরে থেকে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস বা ঘরের ভিতরে ঢোকার আগে জুতো বদল করা। রাস্তার ধুলো বা নোংরা যাতে ভিতরে না আসে, সেই কারণেই এই নিয়ম কঠোরভাবে মানা হয়। স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে পড়ুয়ারা বাইরে ব্যবহৃত জুতো খুলে রেখে ভিতরে ব্যবহারের জন্য আলাদা জুতো পরে নেয়। কাজ শেষে ফের বাইরে বের হওয়ার সময় আবার আগের জুতো পরে নেয় তারা।
এই ভিতরে ব্যবহৃত জুতোগুলি সাধারণত সাদা রঙের হয়। একই ধরনের জুতো হওয়ায় অনেক সময় তা গুলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই ছাত্রছাত্রীরা নিজের জুতোর উপর নাম, চিহ্ন বা আলাদা নকশা এঁকে রাখে যাতে সহজে চিনতে সুবিধা হয়।
সম্প্রতি জাপানে এই ধরনের জুতো নিয়েই নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে উচ্চ শ্রেণির ছাত্রীদের ব্যবহৃত জুতো অনলাইনে বিক্রির ঘটনা সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ব্যবহৃত ও পুরনো স্কুলের জুতো মোটা দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে। জুতোগুলি যে দীর্ঘদিন ব্যবহার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট বোঝা গেলেও ক্রেতার অভাব হচ্ছে না।
এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জাপানের বহু মানুষ। তাঁদের মতে, বিষয়টির পিছনে অস্বাস্থ্যকর ও বিকৃত মানসিকতা কাজ করছে। কেবল কিশোরী বা তরুণী ছাত্রীদের ব্যবহৃত জুতোর চাহিদা কেন এত বেশি, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। অনেকেই মনে করছেন, সাধারণ সংগ্রহের শখের বাইরে গিয়ে এই বেচাকেনার সঙ্গে এক ধরনের অসুস্থ কৌতূহল জড়িয়ে রয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমেও শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। একাংশের দাবি, এমন ব্যবসার উপর আরও কড়া নজরদারি প্রয়োজন। অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, ব্যবহৃত জিনিস বিক্রি করা নতুন কিছু নয়। তবে স্কুলপড়ুয়া মেয়েদের ব্যক্তিগত ব্যবহারের সামগ্রীকে ঘিরে অস্বাভাবিক আগ্রহই বিতর্কের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.