নয়ের দশকে বলিউডে আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রভাব ছিল এক বড় বাস্তবতা। সেই সময় বহু জনপ্রিয় অভিনেতা, প্রযোজক ও পরিচালকদের কাছে হুমকি ফোন আসত। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান সেই অস্থির সময়েরই একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর কথায়, সেই সময়ের ঘটনাগুলি এখন শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও তখন পরিস্থিতি ছিল ভীষণ ভয়ের।
বরুণ জানান, তাঁদের পরিবারও দীর্ঘদিন ধরে অচেনা নম্বর থেকে ফোন পেত। শুরুতে বিষয়টিকে খুব একটা গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। কারণ বাড়ির কর্মচারীরা অনেক সময় ফোনে অচেনা লোকদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়তেন। ফলে কে সত্যিই হুমকি দিচ্ছে আর কে সাধারণ ফোন করছে—তা বোঝা কঠিন হয়ে উঠেছিল।
ঘটনা জটিল রূপ নেয় যখন একদিন ফোনে তর্কের মধ্যে একজন কর্মচারী রাগের মাথায় বাড়ির ঠিকানা পর্যন্ত বলে দেন এবং চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন যে চাইলে সেখানে এসে দেখা করতে পারে। পরে জানা যায়, যাঁদের সঙ্গে কথা হচ্ছিল তাঁরা সাধারণ কেউ নন—আন্ডারওয়ার্ল্ডের লোকজন।
এর কিছুদিন পর পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা যায় আরও স্পষ্টভাবে। এক অভিনেতার বাবা ফোন করে বরুণের বাবা ডেভিড ধাওয়ানকে সতর্ক করেন। তিনি জানান, বিষয়টি নাকি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। যিনি ফোন করেছিলেন তিনি নাকি অস্ত্র নিয়ে আসার কথাও বলেছিলেন এবং পরিবারের দৈনন্দিন রুটিন—কখন কোথায় থাকেন—এসব সম্পর্কেও তাঁর ধারণা ছিল।
এই খবর শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই ধাওয়ান পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। নিরাপত্তার কথা ভেবে তাঁদের একদিনের জন্য বাড়ি ছেড়ে অন্য জায়গায় থাকতে হয়েছিল। বরুণের কথায়, আজকের দিনে ঘটনাটা শুনতে একটু অদ্ভুত বা অবিশ্বাস্য মনে হলেও তখন পরিবারকে ভীষণ চাপ ও ভয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছিল।
এদিকে সম্প্রতি আরেকটি ব্যক্তিগত বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন অভিনেতা। একটি পডকাস্টে এসে তিনি জানান, তাঁর এবং স্ত্রী নাতাশার ছোট মেয়ে লারা জন্মের পর একটি বিরল শারীরিক সমস্যায় ভুগেছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই সমস্যার নাম ডেভেলপমেন্টাল ডিসপ্লেসিয়া অফ দ্য হিপ (DDH)। এই অবস্থায় শিশুর নিতম্বের জয়েন্ট সঠিকভাবে গড়ে ওঠে না। তবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে ধীরে ধীরে চিকিৎসা চলছে বলেও তিনি জানান।
কাজের দিক থেকেও ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন বরুণ। সম্প্রতি তাঁকে বড় পর্দায় একটি নতুন ছবিতে দেখা গেছে। পাশাপাশি মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তাঁর পরবর্তী সিনেমা, যা নিয়ে ভক্তদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
সব মিলিয়ে ব্যক্তিগত জীবন, অতীতের ভয়ের স্মৃতি এবং বর্তমান কাজ—সবকিছু নিয়েই এখন নতুন অধ্যায়ে এগিয়ে চলেছেন অভিনেতা।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.