বাস্তুমতে বিয়ের কার্ড: কোন ভুলে নেমে আসতে পারে অশুভ প্রভাব?

হিন্দুধর্মে বিয়ে শুধু একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, এটি জীবনের অন্যতম পবিত্র সংস্কার। ষোলোটি সংস্কারের মধ্যে বিবাহ এমন একটি অধ্যায়, যা দুটি জীবনকে ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ করে। তাই বিয়ের প্রতিটি প্রস্তুতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শুভ-অশুভের ভাবনা। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে, সেই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল বিয়ের আমন্ত্রণপত্র বা কার্ড।

বাস্তুমতে বিয়ের কার্ড শুধুই অতিথিদের নিমন্ত্রণ জানানোর মাধ্যম নয়, বরং এটি সুখ, সমৃদ্ধি ও দাম্পত্য জীবনের শুভ সূচনার প্রতীক। কার্ডের রঙ, নকশা ও ভাষা—সব কিছুর মধ্যেই লুকিয়ে থাকে বিশেষ তাৎপর্য। সামান্য ভুলও নাকি ভবিষ্যৎ দাম্পত্য জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশ্বাস।

বিয়ের আমন্ত্রণ কার্ডের রঙে কোন নিয়ম মানা জরুরি?

বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী বিয়ের কার্ডের জন্য লাল, হলুদ, জাফরান বা ক্রিম রঙ সবচেয়ে শুভ বলে বিবেচিত।
লাল রঙ প্রেম, শক্তি ও বৈবাহিক বন্ধনের প্রতীক। হলুদ ও জাফরান রঙ শুভ সূচনা, পবিত্রতা ও সমৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। অন্যদিকে কালো বা গাঢ় বাদামী রঙ এড়িয়ে চলাই ভালো। বাস্তুমতে এই রংগুলো দুঃখ, বাধা ও নেতিবাচক শক্তির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

ডিজাইনে কী থাকা উচিত, কী এড়িয়ে চলবেন?

বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে শুভ প্রতীক থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে গণেশের ছবি রাখা বিশেষভাবে শুভ, কারণ গণেশ বিঘ্নহর্তা। তাঁর আশীর্বাদ ছাড়া কোনও শুভ কাজ সম্পূর্ণ হয় না বলে বিশ্বাস।
এছাড়াও স্বস্তিক, কলশ, শঙ্খ বা পদ্মের মতো প্রতীক ইতিবাচক শক্তির প্রবাহ বাড়ায় বলে মনে করা হয়। তবে খুব বেশি অদ্ভুত, জটিল বা বিভ্রান্তিকর নকশা ব্যবহার করা ঠিক নয়। সহজ, শুদ্ধ ও অর্থবহ নকশাই সবচেয়ে শুভ।

বিয়ের কার্ডের ভাষা ও শব্দচয়ন

বিয়ের আমন্ত্রণপত্রে ব্যবহৃত ভাষা হওয়া উচিত কোমল, শুদ্ধ ও সৌম্য। নেতিবাচক অর্থবাহী, কর্কশ বা শোকের ইঙ্গিত দেয় এমন শব্দ ও ছবি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। যুদ্ধ, হতাশা বা দুঃখের প্রতীক কোনওভাবেই কার্ডে রাখা উচিত নয়।
শুভ সময়, তিথি ও বিবাহের সময় নির্ভুলভাবে মুদ্রিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। ভুল তথ্য অশুভ ফল ডেকে আনতে পারে বলে বিশ্বাস।

বর-কনের ছবি ব্যবহার করা কি শুভ?

আজকাল অনেকেই বিয়ের কার্ডে বর-কনের ছবি ছাপান। তবে বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে এটি করা ঠিক নয়। বিশ্বাস করা হয়, এতে অকারণ দৃষ্টি বা নেতিবাচক শক্তির প্রভাব পড়তে পারে। ঐতিহ্য অনুযায়ী প্রথম বিয়ের কার্ড কুলদেবতা ও গণেশকে উৎসর্গ করাই সবচেয়ে শুভ।

সব মিলিয়ে বলা যায়, বিয়ের কার্ড ছাপানোর সময় সামান্য সচেতনতা ও বাস্তুনীতির অনুসরণ করলে দাম্পত্য জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ আরও প্রশস্ত হয়—এমনটাই বিশ্বাস।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক