মানুষের সংস্পর্শে থাকা গৃহপালিত পশুরা যে তুলনামূলকভাবে বেশি বুদ্ধিমান হয়, তা বহুদিন ধরেই জানা। কুকুর, ঘোড়া কিংবা হাতির বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বহু গবেষণা ও উদাহরণ রয়েছে। কিন্তু গৃহপালিত পশুদের মধ্যে অন্যতম পরিচিত প্রাণী গরু—তাদের বুদ্ধি ও আচরণ এতদিন পর্যন্ত সীমিত প্রয়োজন মেটানোর মধ্যেই আবদ্ধ ছিল বলে মনে করা হত।
সাধারণত গরু নিজের প্রয়োজন নিজেই মেটায়। গায়ে মাছি বসলে লেজ নেড়ে তাড়ায়, বিরক্ত হলে শিং দিয়ে গুঁতিয়ে দেয়, কখনও আবার খুঁটির সঙ্গে গা ঘষে চুলকানি মেটায়। কিন্তু এতদিন পর্যন্ত বিশ্ববাসীর ধারণা ছিল, গরু নিজের প্রয়োজন মেটাতে কখনও বাইরের কোনও সরঞ্জাম ব্যবহার করতে পারে না। এই ধারণাতেই সম্প্রতি বড়সড় ভাঙন ধরিয়েছে অস্ট্রিয়ার একটি খামারে থাকা বাদামি রঙের গরু—ভেরোনিকা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভেরোনিকাই পৃথিবীর প্রথম গরু যে সচেতনভাবে নিজের প্রয়োজন মেটাতে বিভিন্ন সরঞ্জাম ব্যবহার করছে। খামারে পর্যবেক্ষণের সময় দেখা যায়, ভেরোনিকা একটি লম্বা কাঠের লাঠি মুখ দিয়ে চেপে ধরে শরীরের বিভিন্ন অংশে চুলকানোর কাজে ব্যবহার করছে। যেখানে লেজ বা পা পৌঁছায় না, সেখানে সে নিখুঁতভাবে লাঠি দিয়ে খোঁচা দিয়ে অস্বস্তি দূর করছে।
এখানেই শেষ নয়। ভেরোনিকা নিয়মিতভাবে একটি ব্রাশও ব্যবহার করে। শরীরের যেসব অংশে লোম বেশি, সেখানে সে ব্রাশ দিয়ে আঁচড়ানোর মতো করে ব্যবহার করে। আরও আশ্চর্যের বিষয় হল—শরীরের অত্যন্ত স্পর্শকাতর বা সংবেদনশীল অংশে অস্বস্তি হলে সে ব্রাশের উল্টোদিকে থাকা ধাতব হ্যান্ডল ব্যবহার করে খুব সাবধানে চুলকানি মেটায়।
প্রাণী আচরণ বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই আচরণ কেবল দৈব বা অনুকরণ নয়। ভেরোনিকা স্পষ্টভাবে বুঝে নিচ্ছে কোন অংশে কোন সরঞ্জাম বেশি কার্যকর। এটি সমস্যার সমাধান করার ক্ষমতা এবং সরঞ্জাম ব্যবহারের সচেতনতার একটি স্পষ্ট প্রমাণ।
গবেষকদের মতে, এতদিন গরুকে তুলনামূলকভাবে কম বুদ্ধিমান গৃহপালিত প্রাণী হিসেবে দেখা হলেও, ভেরোনিকার এই আচরণ গরুর মানসিক সক্ষমতা ও শেখার ক্ষমতা সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এটি প্রাণীজগতে “টুল ইউজ” বা সরঞ্জাম ব্যবহারের ধারণাকে আরও বিস্তৃত করল।
ভেরোনিকার এই ব্যতিক্রমী আচরণ শুধু বৈজ্ঞানিক মহলেই নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও বিস্ময়ের সৃষ্টি করেছে। এক সাধারণ গৃহপালিত গরু যে নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য মানুষের মতো করে সমস্যা সমাধানের পথ খুঁজে নিতে পারে—তা প্রমাণ করেই ইতিহাসে নিজের নাম লিখিয়ে ফেলেছে ভেরোনিকা।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.