বলিউডে আরও এক নক্ষত্রপতন। হিন্দি সিনেমার স্বর্ণযুগের পরিচিত মুখ এবং ‘সারাঙ্গা’ ছবির মাধ্যমে দর্শকমনে বিশেষ জায়গা করে নেওয়া বর্ষীয়ান অভিনেতা সুদেশ কুমার আর নেই। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্রেন স্ট্রোকের কারণে ১ মে মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯৪ বছর।
জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। এরপর তাঁকে দ্রুত মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসার পর অবস্থার কিছুটা স্থিতি এলে তাঁকে বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পরিবারের পক্ষ থেকে বাড়িতেই আইসিইউ-সদৃশ বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থার আয়োজন করা হয়েছিল, যাতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা যায় অভিনেতাকে। কিন্তু ১ মে আচমকাই তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। দ্রুত তাঁকে আবার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
১৯৩১ সালের ১৭ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন সুদেশ কুমার। মুম্বইয়ের এলফিনস্টোন কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করেছিলেন তিনি। পারিবারিক ইচ্ছা ছিল চিকিৎসক হওয়ার, কিন্তু অভিনয়ের প্রতি গভীর আকর্ষণ তাঁকে টেনে নিয়ে যায় বিনোদন জগতে। অভিনয়জীবনের শুরু পৃথ্বীরাজ কাপুরের থিয়েটার দলে কাজের মাধ্যমে। সেখান থেকেই তাঁর অভিনয় দক্ষতার বিকাশ ঘটে।

পরে ‘সারাঙ্গা’ ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি। ছবিটি মুক্তির পর দর্শক এবং সমালোচকদের প্রশংসা কুড়িয়ে নেন। এই ছবিই তাঁর কেরিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর একাধিক ছবিতে অভিনয় করে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বলিউডের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেতা হিসেবে।
তাঁর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্র মহলে। সহকর্মী, অনুরাগী এবং সিনেমাপ্রেমীরা স্মরণ করছেন তাঁর দীর্ঘ অভিনয়জীবন ও অবদানকে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী ৪ মে বিকেল ৪টেয় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। স্ত্রী এবং মেয়ে মিশিকাকে রেখে গেলেন এই প্রবীণ অভিনেতা।
সুদেশ কুমারের মৃত্যু ভারতীয় চলচ্চিত্র জগতের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের অবসান বলেই মনে করছেন অনেকেই। তাঁর অভিনয় এবং পর্দায় উপস্থিতি আগামী প্রজন্মের কাছেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.