হিন্দু পুরাণ ও বৈদিক জ্যোতিষে নবগ্রহের মধ্যে বৃহস্পতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী গ্রহ। তাঁকে সাধারণভাবে “দেবগুরু” নামে ডাকা হয়। কিন্তু কেন এই বিশেষ সম্মান? কে তাঁকে এই উপাধি দিয়েছিলেন? এর পেছনে রয়েছে গভীর পৌরাণিক কাহিনি, তপস্যা ও দেবতাদের সঙ্গে তাঁর অটুট সম্পর্ক।
বৃহস্পতির আসল রূপ ও বৈদিক বর্ণনা
বৈদিক জ্যোতিষ অনুসারে সূর্যের পরে বৃহস্পতিই নবগ্রহের মধ্যে দ্বিতীয় বৃহত্তম। তাঁর রং হলুদ—এই কারণেই হলুদ রং বৃহস্পতির প্রিয়। পুরাণে দেবগুরু বৃহস্পতির যে রূপের উল্লেখ পাওয়া যায়, তা অত্যন্ত ঐশ্বর্যমণ্ডিত। তাঁর মাথায় সোনার মুকুট, গলায় মালা, পরনে হলুদ বসন এবং তিনি পদ্মফুলের উপর আসীন।
বৃহস্পতির চারটি হাত—এক হাতে লাঠি, এক হাতে রুদ্রাক্ষের মালা, তৃতীয় হাতে পাত্র এবং চতুর্থ হাতে বরাভয় মুদ্রা। তাঁর বাহন সূর্যের মতো উজ্জ্বল সোনালি রঙের রথ, যা হাওয়ার গতিতে আটটি ঘোড়া টেনে নিয়ে যায়। ঋগ্বেদে এই রূপের স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে।
দেবগুরু বৃহস্পতির পরিবার
পুরাণ অনুসারে বৃহস্পতির পরিবারও সমৃদ্ধ ও গৌরবোজ্জ্বল। তাঁর তিন স্ত্রী—শুভা, তারা ও মমতা।
স্ত্রী শুভার সাত কন্যা
স্ত্রী তারার সাত পুত্র ও এক কন্যা
স্ত্রী মমতার দুই প্রসিদ্ধ পুত্র—ভরদ্বাজ ও কাঞ্চন
বৃহস্পতির অধিপতি দেবতা হলেন দেবরাজ ইন্দ্র এবং প্রধান দেব হিসেবে তিনি প্রজাপতি ব্রহ্মার সঙ্গে যুক্ত।
কেন তিনি ‘দেবগুরু’? পৌরাণিক ব্যাখ্যা
স্কন্দ পুরাণ অনুসারে, বৃহস্পতির বিপুল জ্ঞান, কঠোর সাধনা ও ধর্মবোধের কারণেই তাঁকে দেবগুরু আখ্যা দেওয়া হয়। প্রভাস তীর্থে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে মহাদেবের গভীর উপাসনা করেন। তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে স্বয়ং মহাদেব আবির্ভূত হন এবং তাঁকে দেবতাদের আচার্য বা গুরু হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বৃহস্পতি দেবতাদের নীতিপথে পরিচালিত করতেন এবং তাঁর উপদেশে বহুবার দেবতারা অসুর ও রাক্ষসদের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেয়েছেন। এই কারণেই আকাশের অন্যতম প্রভাবশালী গ্রহ হিসেবে বৃহস্পতির বিশেষ মর্যাদা।
বৃহস্পতির কৃপা লাভের উপায়
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, কারও জন্মছকে বৃহস্পতির অবস্থান দুর্বল হলে কিছু বিশেষ উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে—
প্রতি বৃহস্পতিবার উপবাস রাখা
অমাবস্যা তিথিতে উপবাস
বৃহস্পতিবার হলুদ পোশাক পরা ও কপালে হলুদ বা জাফরানের তিলক
জ্যোতিষবিদের পরামর্শে হলুদ টোপাজ ধারণ
হলুদ কাপড়, সোনা, ঘি, হলুদ শস্য ও মধু দান
বিশ্বাস করা হয়, এই সমস্ত উপায়ে দেবগুরু বৃহস্পতির কৃপা লাভ করা সম্ভব।
দেবতাদের পথপ্রদর্শক বৃহস্পতির পৌরাণিক কাহিনি আজও জ্যোতিষ ও ধর্মীয় বিশ্বাসে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.