ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে বক্স অফিসের সবচেয়ে সফল ছবিগুলির মধ্যে অন্যতম ‘বাহুবলী’। এই ছবির হাত ধরেই অভিনেতা প্রভাস দক্ষিণী তারকার গণ্ডি পেরিয়ে সর্বভারতীয় পরিচিতি পান। শুধু তাঁর ক্যারিয়ারই নয়, ভারতীয় চলচ্চিত্রের ব্যবসায়িক সম্ভাবনাকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেয় এই সিনেমা। তবে এই অভাবনীয় সাফল্যের পিছনে লুকিয়ে ছিল এক অন্য গল্প—যে সাফল্যের চাপ দীর্ঘ সময় ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল অভিনেতাকে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রভাস জানিয়েছেন, ‘বাহুবলী’র পরবর্তী কয়েকটি বছর তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলির মধ্যে অন্যতম ছিল। তিনি নাকি দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকভাবে ঘুমোতেই পারেননি। কারণ, একটি ঐতিহাসিক সাফল্যের পর কী ধরনের ছবি করা উচিত, তা নিয়ে তিনি প্রবল দোটানায় ভুগছিলেন।
অভিনেতার কথায়, ‘সাহো’ মুক্তির প্রথম দিনেই উত্তর ভারতে বিপুল অঙ্কের ব্যবসা করেছিল, যা তাঁকেও অবাক করেছিল। তবে এই সাফল্যের কৃতিত্ব নিজের অভিনয় বা জনপ্রিয়তাকে দিতে নারাজ প্রভাস। তাঁর মতে, দর্শকদের মধ্যে ‘বাহুবলী’কে ঘিরে যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল, ‘সাহো’-র প্রথম দিনের ব্যবসার মূল কারণ সেটাই।
প্রভাস আরও জানিয়েছেন, ‘বাহুবলী’র আগে তাঁর অধিকাংশ ছবির বাজেট ছিল তুলনামূলকভাবে সীমিত। কিন্তু এই ছবির নজিরবিহীন সাফল্যের পরই বড় বাজেটের এবং উচ্চাভিলাষী প্রকল্প নির্মাণের পথ খুলে যায়। ‘সাহো’, ‘রাধে শ্যাম’ কিংবা পরে ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র মতো বিশাল মাপের ছবিগুলি তৈরি করার সাহস ও আর্থিক ভিত্তি তৈরি হয় এই সাফল্যের উপর ভর করেই।
তবে জনপ্রিয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়ে যায় প্রত্যাশা এবং দায়িত্বও। প্রভাস জানান, ‘বাহুবলী’র পর তিনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না, পরবর্তী ছবিতে কোন পথে এগোনো উচিত। আবার কি মহাকাব্যিক কাহিনি? আরও বড় ভিএফএক্সনির্ভর ছবি? নাকি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের গল্প? এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি দীর্ঘ সময় মানসিক চাপে ছিলেন।
তাঁর দাবি, ‘বাহুবলী’র পর প্রত্যেক বিভাগে দায়িত্ব কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময়টাই তাঁর জীবনের সবচেয়ে চাপপূর্ণ অধ্যায় হয়ে ওঠে। ওই সময়েই বিভিন্ন নতুন প্রকল্প নিয়ে পরিচালক প্রশান্ত নীল এবং নাগ অশ্বিনের সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তীকালে সেই আলোচনাই ‘সালার’ এবং ‘কল্কি ২৮৯৮ এডি’র মতো ছবিতে রূপ নেয়, যেগুলি আবারও বক্স অফিসে সাফল্য এনে দেয় এবং প্রভাসের সর্বভারতীয় তারকা হিসেবে অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করে।
আজ পিছনে ফিরে তাকিয়ে প্রভাসের উপলব্ধি, তাঁর বর্তমান সাফল্যের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল ‘বাহুবলী’ দিয়েই। তাঁর মতে, এই ছবিটি না হলে পরবর্তী সময়ে এত বড় মাপের চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সেইসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন সম্ভব হত না। সম্প্রতি ‘বাহুবলী’র নির্মাণ-পর্বের নানা অজানা গল্প নিয়ে একটি বিশেষ চার পর্বের ডকুমেন্টারিও মুক্তি পেয়েছে, যা আবারও এই ঐতিহাসিক ছবিকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.