শিশু রাতে বার বার প্রস্রাবের বেগ পাচ্ছে, বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলছে, প্রস্রাবের সময়ে জ্বালা করছে কিংবা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি খিদে পাচ্ছে? অনেক সময় অভিভাবকেরা এই লক্ষণগুলিকে মূত্রনালির সংক্রমণ বা ডায়াবিটিসের সঙ্গে মিলিয়ে দেখেন। কিন্তু সব ক্ষেত্রে কারণ তা নয়। কিছু ক্ষেত্রে এগুলি শৈশবেই কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে।
কিডনির রোগ শুধু বড়দের হয়—এমন ধারণা ঠিক নয়। শিশু ও কিশোরদেরও কিডনির নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। জন্মগত বা গঠনগত ত্রুটি, সংক্রমণ, জিনগত কারণ কিংবা জীবনযাপনের কিছু অভ্যাস এর নেপথ্যে থাকতে পারে। সমস্যা হল, প্রাথমিক পর্যায়ে কিডনির অসুখের লক্ষণ অনেক সময় স্পষ্ট হয় না। ফলে উপসর্গকে অবহেলা করলে রোগ নির্ণয়ে দেরি হতে পারে।
কেন শিশুদের কিডনির রোগ হতে পারে?
শিশুদের ক্ষেত্রে কিডনির গঠনগত সমস্যা জন্ম থেকেই থাকতে পারে। আবার বার বার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং তা সঠিক ভাবে চিকিৎসা না করালেও কিডনিতে প্রভাব পড়তে পারে। পরিবারে কিডনির রোগের ইতিহাস থাকলেও শিশুর ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়া, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং কম বয়সেই স্থূলত্ব কিডনির স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কোন লক্ষণগুলি দেখলে সতর্ক হবেন?
চোখ-মুখ বা পা ফুলে যাওয়া: ঘুম থেকে ওঠার পর চোখের পাতা বা মুখ ফুলে থাকা, কিংবা পা, গোড়ালি ও পেটে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
প্রস্রাবে অস্বাভাবিক পরিবর্তন: প্রস্রাবে অতিরিক্ত ফেনা দেখা গেলে শরীর থেকে প্রোটিন বেরিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। প্রস্রাব লালচে, কালচে বা খয়েরি হলেও তা অবহেলা করা উচিত নয়।
বার বার প্রস্রাব বা বিছানা ভেজানো: বয়স অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ তৈরি হওয়ার পরেও নিয়মিত রাতে বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলা, খুব ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া কিংবা উল্টো স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম প্রস্রাব হওয়া—সবই নজরে রাখার মতো লক্ষণ।
প্রস্রাবের সময়ে ব্যথা বা জ্বালা: প্রস্রাব করার সময়ে ব্যথা, জ্বালা কিংবা অস্বস্তি হলে মূত্রনালি ও কিডনির সমস্যা রয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
অতিরিক্ত ক্লান্তি ও ওজন কমা: শিশু অস্বাভাবিক ভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, বার বার খিদে পাচ্ছে বা কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমছে—এমন লক্ষণ দেখা দিলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
উচ্চ রক্তচাপ: শিশুদের অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ কিডনির সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী শিশুর রক্তচাপও পরীক্ষা করা দরকার।
শারীরিক বিকাশে বাধা: বয়সের তুলনায় শিশুর উচ্চতা বা সামগ্রিক শারীরিক বিকাশ থমকে গেলে তার কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
শিশুর কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন?
শিশুকে পর্যাপ্ত জল খাওয়ানোর অভ্যাস তৈরি করতে হবে। পর্যাপ্ত তরল না পেলে মূত্রনালির সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে শিশুকে দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখতে দেওয়া উচিত নয়।
খাবারের ক্ষেত্রেও নজর দিতে হবে। অতিরিক্ত প্যাকেটজাত, প্রক্রিয়াজাত ও ভাজাভুজি খাবারের বদলে ঘরে তৈরি পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো ভালো। শিশুর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী নিয়মিত খেলাধুলা বা শারীরচর্চার অভ্যাসও তৈরি করা দরকার।
রক্ত দেওয়ার পর ক্লান্তি কেন? শরীরের ভিতরে কী হয়, দ্রুত ফিট হতে কী করবেন
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উপসর্গ বার বার দেখা দিলে নিজে থেকে কারণ ধরে না নিয়ে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া। প্রয়োজনে চিকিৎসক প্রস্রাব পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা, রক্তচাপ মাপা বা অন্যান্য পরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার কারণ খুঁজে দেখতে পারেন।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.