শিশুর ত্বকে হঠাৎ সাদা বা ফ্যাকাসে দাগ দেখা দিলে অনেক অভিভাবকই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে এটি সাধারণ ত্বকের পরিবর্তন হলেও, কখনও কখনও তা শ্বেতি (ভিটিলিগো)-র লক্ষণ হতে পারে। এই রোগ নিয়ে সমাজে এখনও নানা ভুল ধারণা রয়েছে। কেউ মনে করেন এটি ছোঁয়াচে, আবার কেউ অকারণে ভয় পান। বাস্তবে শ্বেতি একটি অটোইমিউনজনিত ত্বকের সমস্যা, যা স্পর্শ, একসঙ্গে খাওয়া বা খেলাধুলার মাধ্যমে একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায় না।
কেন হয় শ্বেতি?
ত্বকের স্বাভাবিক রং নির্ধারণ করে মেলানোসাইট নামের বিশেষ কোষ। কোনও কারণে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা এই কোষগুলির উপর আক্রমণ করলে সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বা কাজ করা বন্ধ করে দেয়। ফলে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় রংহীন বা সাদা দাগ তৈরি হতে শুরু করে। এই সমস্যার সূচনা শিশু বয়সেও হতে পারে।

শিশুদের ক্ষেত্রে কোন লক্ষণগুলি খেয়াল করবেন?
১. ত্বকে সাদা দাগের আবির্ভাব
শ্বেতির সবচেয়ে পরিচিত লক্ষণ হল হঠাৎ ত্বকের কোনও অংশে সাদা দাগ দেখা দেওয়া। মুখ, ঠোঁটের চারপাশ, হাত, পা, আঙুল, কনুই, হাঁটু কিংবা চোখের আশপাশে এই দাগ প্রথম দেখা দিতে পারে।
২. আক্রান্ত স্থানের চুলের রং বদলে যাওয়া
শুধু ত্বক নয়, অনেক সময় সেই জায়গার চুলও সাদা হতে শুরু করে। মাথার চুল, ভ্রু বা চোখের পাপড়িতেও এমন পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
৩. ব্যথা বা চুলকানি না থাকা
শ্বেতির দাগে সাধারণত ব্যথা, জ্বালাভাব বা চুলকানি থাকে না। তাই অনেক সময় প্রথম দিকে বিষয়টি নজর এড়িয়ে যায়। ত্বকে ব্যথাহীন সাদা দাগ দেখা দিলেই সতর্ক হওয়া উচিত।
৪. পারিবারিক ইতিহাস
পরিবারে যদি আগে কারও শ্বেতি বা অন্য কোনও অটোইমিউন রোগ থেকে থাকে, তবে শিশুর ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে থাইরয়েডের সমস্যা বা টাইপ-১ ডায়াবিটিসের সঙ্গেও এই রোগের সম্পর্ক দেখা যায়।
৫. দাগের বিস্তার
প্রথমে ছোট দাগ থাকলেও যদি ধীরে ধীরে তা বড় হতে থাকে বা শরীরের অন্য অংশেও নতুন দাগ দেখা দেয়, তবে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মানসিক দিকেও নজর জরুরি
শ্বেতি শুধু ত্বকের পরিবর্তন নয়, শিশুর মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। স্কুলে সহপাঠীদের কৌতূহল, অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য বা বিদ্রূপ শিশুর আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দিতে পারে। তাই অভিভাবকদের উচিত সন্তানের পাশে থাকা, তাকে আশ্বস্ত করা এবং বোঝানো যে এই রোগ তার ব্যক্তিত্ব বা সক্ষমতাকে কোনওভাবেই কমিয়ে দেয় না।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
ত্বকে অস্বাভাবিক সাদা দাগ দেখা দিলেই নিজে থেকে কোনও ঘরোয়া চিকিৎসা শুরু না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। যত দ্রুত রোগ নির্ণয় করা যায়, তত দ্রুত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসার সাহায্যে অনেক ক্ষেত্রেই শ্বেতির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং ত্বকের অবস্থার উন্নতিও সম্ভব।
মনে রাখবেন: শ্বেতি কোনও ছোঁয়াচে রোগ নয়। তাই এই রোগে আক্রান্ত শিশুদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং সচেতনতা তৈরি করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.