রোজের খাবারে একই ধরনের আটার রুটি খেতে খেতে অনেকেরই একঘেয়েমি চলে আসে। বিশেষ করে শিশুদের কাছে রুটি মানেই অনীহার খাবার। আবার অনেকেই হজমের সমস্যা বা স্বাস্থ্যগত কারণে সাধারণ আটা এড়িয়ে চলতে চান। তবে রুটির জগৎ যে শুধুই গমের আটায় সীমাবদ্ধ নয়, তা হয়তো অনেকেই জানেন না। ভারতের নানা প্রান্তে বিভিন্ন শস্য ও উপাদান দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু ও পুষ্টিকর নানা ধরনের রুটি, যেগুলি স্বাদে যেমন আলাদা, তেমনই শরীরের জন্যও উপকারী।
জোয়ারের রুটি
জোয়ার দিয়ে তৈরি রুটি হালকা দানাদার স্বাদের হয়। এতে প্রচুর ফাইবার থাকায় হজম ভালো হয় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে। ক্যালসিয়াম ও পটাশিয়াম সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্যের পক্ষেও উপকারী। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করায় ওজন কমানোর ডায়েটেও জোয়ারের রুটি জনপ্রিয়। বেগুন ভর্তা বা ডালের সঙ্গে এই রুটির স্বাদ বিশেষভাবে জমে ওঠে।

বাজরার রুটি
বাজরা আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের ভালো উৎস। শীতের দিনে শরীর গরম রাখতে এই রুটি অনেক জায়গায় নিয়মিত খাওয়া হয়। যাঁদের শরীরে আয়রনের ঘাটতি রয়েছে, তাঁদের খাদ্যতালিকায় বাজরার রুটি উপকারী হতে পারে। এর রুটি সাধারণত একটু মোটা হয় এবং রসুনের চাটনি বা শাকের সঙ্গে খেতে দারুণ লাগে।
রাগির রুটি
রাগি বা নাচনি দিয়ে তৈরি রুটি দক্ষিণ ভারতে খুব জনপ্রিয়। এতে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও আয়রন থাকে, যা হাড় মজবুত করতে এবং রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। রাগির গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম হওয়ায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও এটি ভালো বিকল্প। তবে সঠিক পদ্ধতিতে না বানালে রুটি কিছুটা শুকনো লাগতে পারে। সাম্বার বা নারকেলের চাটনির সঙ্গে এটি খেতে বেশ সুস্বাদু।
ভুট্টার আটার রুটি
ভুট্টার আটা দিয়ে তৈরি রুটির স্বাদে হালকা মিষ্টত্ব থাকে। এতে ভিটামিন এ থাকায় শরীরের কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি হজমেও আরাম দেয়। আলুর তরকারি, আচার বা রায়তার সঙ্গে এই রুটি সহজেই মানিয়ে যায়। উত্তর ভারতের বহু জায়গায় শীতকালে এই রুটি বিশেষ জনপ্রিয়।
চালগুঁড়ির রুটি
যাঁরা গ্লুটেন এড়িয়ে চলতে চান, তাঁদের জন্য চালের গুঁড়োর রুটি ভালো বিকল্প হতে পারে। এটি নরম ও হালকা হওয়ায় বয়স্কদের জন্যও সহজপাচ্য। ঝাল মাংসের ঝোল বা মশলাদার তরকারির সঙ্গে এই রুটির স্বাদ বেশ উপভোগ্য।
ওটসের রুটি
ওটস হৃদ্যন্ত্র ভালো রাখতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। ওটসের রুটির স্বাদ খুব বেশি আলাদা নয়, তাই প্রায় সব ধরনের তরকারির সঙ্গেই এটি খাওয়া যায়। পনির, ডিমের কারি বা সবজি— সব কিছুর সঙ্গেই ওটসের রুটি সহজে মানিয়ে নেয়।
রোজকার খাবারে একটু বৈচিত্র্য আনতে চাইলে এই ধরনের রুটিগুলি সহজেই জায়গা করে নিতে পারে আপনার রান্নাঘরে। স্বাদের পাশাপাশি শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও মিলবে একসঙ্গে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.