জ্যোতিষশাস্ত্রে মানুষের জীবনে গ্রহের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই গ্রহগুলোর মধ্যে শনির মহাদশাকে সবচেয়ে কঠিন ও পরীক্ষামূলক সময় হিসেবে ধরা হয়। বৈদিক জ্যোতিষ অনুযায়ী শনির মহাদশার স্থায়িত্ব মোট ১৯ বছর। এই দীর্ঘ সময় জুড়ে মানুষকে ধৈর্য, পরিশ্রম ও দায়িত্ববোধের সঙ্গে জীবনযাপন করতে হয়।
কর্মফলদাতা গ্রহ শনি মানুষের অতীত ও বর্তমান কর্মের ভিত্তিতে ফল প্রদান করে। তাই শনির মহাদশায় জীবনের গতি অনেক সময় ধীর হয়ে যায়। কর্মক্ষেত্রে বাধা, দায়িত্ব বৃদ্ধি, একাকিত্ব, মানসিক চাপ এবং পরিশ্রমের তুলনায় ফল পেতে দেরি—এই সব অভিজ্ঞতা অনেকের জীবনেই দেখা যায়। তবে জ্যোতিষ মতে, শনির মহাদশা সব সময় যে অশুভ হবে এমন নয়। জন্মকুণ্ডলীতে শনি যদি শুভ স্থানে অবস্থান করে, তাহলে এই সময়েই জীবনে স্থায়ী সাফল্য, পেশাগত উন্নতি ও সামাজিক সম্মান অর্জন সম্ভব।
শনির মহাদশার মধ্যেই চলে বিভিন্ন অন্তর্দশা। এই ১৯ বছরের সময়কালে সূর্য, চন্দ্র, মঙ্গল, বুধ, বৃহস্পতি, শুক্র, শনি, রাহু ও কেতু—প্রতিটি গ্রহের অন্তর্দশা পর্যায়ক্রমে আসে। যে গ্রহের অন্তর্দশা সক্রিয় থাকে, তার প্রভাবই জীবনে বেশি অনুভূত হয়। যেমন, শুক্রের অন্তর্দশায় সম্পর্ক, অর্থ ও বিলাসিতার দিকে মনোযোগ বাড়ে। আবার মঙ্গলের অন্তর্দশায় কাজের চাপ, তর্ক বা সংঘাতের সম্ভাবনা থাকে। শনির অন্তর্দশায় দায়িত্ব ও চ্যালেঞ্জ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এই সময় কিছু নিয়ম মেনে চললে শনির কুপ্রভাব অনেকটাই কমানো যায়।
শনির মহাদশায় যে নিয়মগুলি মেনে চলা জরুরি
শনির মহাদশায় সততা ও দায়িত্ববোধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। শর্টকাট পদ্ধতি বা অসৎ পথে সাফল্য অর্জনের চেষ্টা করলে শনি অসন্তুষ্ট হতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় ঋণ গ্রহণ ও অকারণ খরচ এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। আবেগপ্রবণ হয়ে বড় সিদ্ধান্ত না নেওয়াও এই সময় জরুরি। পাশাপাশি স্বাস্থ্য সচেতনতা অত্যন্ত প্রয়োজন—নিয়মিত জীবনযাপন, শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এই সময় শরীর ও মনকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন:১১ ফেব্রুয়ারি থেকে চার রাশির জীবনে বড়সড় ভাগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত
শনির কুপ্রভাব কাটাতে জ্যোতিষীয় প্রতিকার
শনিবার শনি চালিশা ও শনি স্তোত্র পাঠ করলে শুভ ফল পাওয়া যায়। শনির মহাদশায় টানা ২১ মঙ্গলবার হনুমান চালিশা পাঠ করার সংকল্প করা যেতে পারে, এমনকি গোটা মহাদশা জুড়েও এটি করলে সুফল মেলে। সুন্দরকাণ্ড পাঠও শনির দোষ প্রশমনে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
প্রতি শনিবার সূর্যোদয়ের আগে অশ্বত্থ গাছে জল অর্পণ করা, শনিদেবের সামনে সর্ষের তেলের প্রদীপ জ্বালানো অত্যন্ত শুভ। পাশাপাশি দরিদ্র ও অভাবী মানুষকে পোশাক, জুতো বা সর্ষের তেল দান করলে শনির কৃপা লাভ করা যায়। কেউ কেউ নীলকান্তমণি ধারণ করেন, তবে এটি অবশ্যই অভিজ্ঞ জ্যোতিষীর পরামর্শ অনুযায়ী করা উচিত, নচেৎ হিতে বিপরীত হতে পারে।
আরও পড়ুন:Astro: হাতের পাতায় ‘A’ চিহ্ন: রাজভাগ্য, সাফল্য ও ঈশ্বরের বিশেষ আশীর্বাদের সংকেত
সব মিলিয়ে, শনির মহাদশা ভয় পাওয়ার সময় নয়। সৎ জীবনযাপন, ধৈর্য, পরিশ্রম এবং সঠিক প্রতিকার মেনে চললে এই কঠিন সময়ই ভবিষ্যতের স্থায়ী সাফল্যের ভিত্তি গড়ে দিতে পারে।

Hello, I am Biplab Baroi. I have been working in blogging for more than four years. I began my journey in the digital media industry in 2021.
Along with covering daily news and current events, I write articles on tech news, smartphones, and astrology. My work is created strictly for educational purposes use only.