২০২৬ সালের ৩ মার্চ, মঙ্গলবার দোল পূর্ণিমার দিনেই ঘটতে চলেছে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি একটি স্বাভাবিক মহাজাগতিক ঘটনা হলেও হিন্দু ধর্ম ও জ্যোতিষশাস্ত্রে গ্রহণকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ২০২৬ সালে মোট চারটি গ্রহণ হবে—দুটি সূর্যগ্রহণ ও দুটি চন্দ্রগ্রহণ। এর মধ্যে ৩ মার্চের চন্দ্রগ্রহণই একমাত্র যা ভারত থেকে দৃশ্যমান হবে।
গ্রহণের ধরন ও তিথি
এই গ্রহণটি ফাল্গুন শুক্লপক্ষের পূর্ণিমা তিথিতে সংঘটিত হবে এবং এটি একটি আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণটি সিংহ রাশিতে হবে বলে জ্যোতিষ মতে বিশেষ প্রভাব ফেলতে পারে।
সময়সূচি (দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুসারে)
উপছায়া গ্রহণ শুরু: দুপুর ২:১৪
আংশিক গ্রহণ শুরু: বিকেল ৩:২০
পূর্ণ গ্রহণ পর্যায়: বিকেল ৪:৩৪ – ৫:৩২
আংশিক গ্রহণ শেষ: সন্ধ্যা ৬:৪৫
উপছায়া সমাপ্তি: সন্ধ্যা ৭:৫৩
ভারতের বহু স্থানে সন্ধ্যার সময় প্রায় ২০ থেকে ২৫ মিনিট গ্রহণ দৃশ্যমান হবে।
কোথায় দেখা যাবে?
এই চন্দ্রগ্রহণ ভারত, পূর্ব ও মধ্য এশিয়ার বহু দেশে দৃশ্যমান হবে। অস্ট্রেলিয়া ও ওশেনিয়া অঞ্চলে সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাবে। এছাড়া উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও এটি সম্পূর্ণরূপে দৃশ্যমান হবে। তবে আফ্রিকা ও ইউরোপে এই গ্রহণ দেখা যাবে না।
ভারতের মধ্যে অসম, অরুণাচল প্রদেশে গ্রহণ সম্পূর্ণভাবে দৃশ্যমান হতে পারে। দিল্লি, মুম্বই ও কলকাতায় চন্দ্রোদয়ের সময় আংশিক গ্রহণ দেখা যাবে। কলকাতায় প্রায় এক ঘণ্টা ৯ মিনিট গ্রহণ দৃশ্যমান থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূতক কাল বৈধ কি?
যেহেতু গ্রহণটি ভারত থেকে দেখা যাবে, তাই সূতক কাল বৈধ হবে। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, চন্দ্রগ্রহণের প্রায় ৯ ঘণ্টা আগে সূতক শুরু হয়। অর্থাৎ সকাল ৬:২০ মিনিট থেকে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
গ্রহণকালে কী করবেন?
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে গ্রহণকাল আধ্যাত্মিক অনুশীলনের জন্য বিশেষ ফলপ্রসূ সময়। এই সময়—
ধ্যান ও জপ করুন
গায়ত্রী মন্ত্র বা মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র জপ করতে পারেন
মানসিক শান্তি বজায় রাখুন
ইতিবাচক চিন্তায় মনোনিবেশ করুন
বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে আধ্যাত্মিক সাধনা বহু গুণ বেশি ফল দেয়।
কী এড়িয়ে চলবেন?
অনেকের বিশ্বাস অনুযায়ী গ্রহণকালে—
শুভ কাজ বা মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান করা উচিত নয়
মানসিক অস্থিরতা, রাগ বা ভয় এড়িয়ে চলা উচিত
অশান্ত পরিবেশ থেকে দূরে থাকা ভালো
গ্রহণ একটি প্রাকৃতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা হলেও সনাতন ধর্মে এর আলাদা তাৎপর্য রয়েছে। কেউ একে নিছক বিজ্ঞানসম্মত ঘটনা হিসেবে দেখেন, আবার কেউ ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে যেভাবেই দেখা হোক না কেন, ৩ মার্চের এই চন্দ্রগ্রহণ দোল পূর্ণিমাকে আরও বিশেষ করে তুলবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.