শাস্ত্রমতে নজরদোষ বা কুনজর এমন এক অদৃশ্য প্রভাব, যা মানুষের সাজানো জীবনকেও মুহূর্তে ওলটপালট করে দিতে পারে। অনেক সময় অকারণ বাধা, সম্পর্কের অবনতি, কর্মক্ষেত্রে সমস্যা কিংবা দুর্ঘটনার পিছনেও নজরদোষকে দায়ী করা হয়। কার মনে কী চলছে তা বোঝা যায় না বলেই কখন কে কার কুনজরের শিকার হচ্ছেন, তা আগে থেকে টের পাওয়া কঠিন।
জ্যোতিষশাস্ত্রের মতে, ২০২৬ সালে বিশেষ কিছু তারিখে জন্মানো জাতক-জাতিকাদের উপর নজরদোষের প্রভাব তুলনামূলক বেশি পড়তে পারে। দেখে নিন তালিকাটি—
৫ তারিখে জন্ম
এই তারিখে জন্মানো ব্যক্তিদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। কুনজরের কারণে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অতিরিক্ত প্রকাশ্যে আলোচনা এড়িয়ে চলুন।
৭ তারিখে জন্ম
প্রতারণার সম্ভাবনা বেশি। নিজের পরিকল্পনা, সাফল্য বা ব্যক্তিগত খবর সবার সঙ্গে ভাগ না করাই ভালো। কাউকে সহজে বিশ্বাস করা থেকে বিরত থাকুন।
১১ তারিখে জন্ম
কর্মক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে। সহকর্মীদের সঙ্গে সাবধানে মিশুন। ভুল সিদ্ধান্ত বা গুজবে কান দিলে বড় সমস্যায় পড়তে পারেন।
১৫ তারিখে জন্ম
দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রবল। রাস্তাঘাটে চলাফেরায় সতর্ক থাকুন। গোপন পরিকল্পনা বা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রকাশ্যে আনবেন না।
১৯ তারিখে জন্ম
গাড়ি চালানোর সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি। সকলের সঙ্গে অতিরিক্ত খোলামেলা ব্যবহার না করাই ভালো। অকারণে ঝুঁকি নেবেন না।
২১ তারিখে জন্ম
অতিরিক্ত মেলামেশা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। বিশেষ করে দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলুন। কুনজরের প্রবল প্রভাব পড়তে পারে।
২৭ তারিখে জন্ম
নানা দিক থেকে বাধা আসতে পারে। নিজের পরিকল্পনা গোপন রাখুন। না হলে হয়ে আসা কাজও ভেস্তে যেতে পারে এবং দুঃসময় দীর্ঘায়িত হতে পারে।
নজরদোষ থেকে বাঁচার সহজ প্রতিকার
কার মনে কী চলছে তা বোঝা যায় না। তাই আগাম সতর্কতাই একমাত্র উপায়। শাস্ত্রমতে, ২০২৬ সালে নজরদোষ থেকে রক্ষা পেতে নিজের সঙ্গে সবসময়—
তিনটি গোলমরিচ
দুটি এলাচ
রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাড়ি থেকে বেরোনোর সময় এগুলি সঙ্গে রাখলে কুনজরের প্রভাব কিছুটা হলেও কমতে পারে বলে বিশ্বাস করা হয়।
উপসংহার
নজরদোষে বিশ্বাস থাক বা না থাক, সতর্কতা অবলম্বন করা সবসময়ই বুদ্ধিমানের কাজ। সম্পর্ক, কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সচেতন থাকুন। ইতিবাচক মানসিকতা ও আত্মবিশ্বাসই সবচেয়ে বড় রক্ষা কবচ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.