বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্রে শনি গ্রহকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রভাবশালী গ্রহ হিসেবে ধরা হয়। শনি দেবকে সাধারণত কর্মফলদাতা ও ন্যায়ের প্রতীক বলা হয়। মানুষের কর্ম, শৃঙ্খলা, ধৈর্য এবং জীবনের পরীক্ষার সঙ্গে এই গ্রহের সম্পর্ক রয়েছে বলে মনে করা হয়। তাই শনির অবস্থানের সামান্য পরিবর্তনও অনেক সময় বিভিন্ন রাশির জাতক-জাতিকাদের জীবনে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্যোতিষশাস্ত্রের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে শনি মীন রাশিতে অস্ত যাবেন। এরপর প্রায় ৪০ দিন ধরে তিনি অস্তগামী অবস্থায় থাকবেন এবং ২২ এপ্রিল ভোর ৪টা ৪৯ মিনিটে আবার উদিত হবেন। গ্রহ যখন সূর্যের খুব কাছে চলে আসে এবং আকাশে দৃশ্যমান থাকে না, তখন তাকে জ্যোতিষশাস্ত্রে ‘অস্ত’ বা ‘কমবাস্ট’ বলা হয়। এই সময় গ্রহের স্বাভাবিক প্রভাব কিছুটা কমে যায় বলে মনে করা হয়।
তবে সব ক্ষেত্রেই এটি অশুভ নয়। অনেক সময় কোনও গ্রহের অস্তকাল কিছু মানুষের জীবনে চাপ কমিয়ে নতুন সুযোগের পথও খুলে দিতে পারে। বিশেষ করে চারটি রাশির জন্য এই সময়টিকে তুলনামূলকভাবে অনুকূল বলে মনে করছেন জ্যোতিষীরা।
মেষ রাশি
মেষ রাশির জাতকদের জন্য শনির অস্তকাল কিছুটা স্বস্তির বার্তা আনতে পারে। জন্মকুণ্ডলীর দ্বাদশ ঘরে এই অবস্থান ব্যয়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ আনতে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা কাজ ধীরে ধীরে সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে এই রাশির জাতকদের উপর এখনও সাড়ে সাতির প্রভাব চলতে পারে, তাই ধৈর্য, সংযম এবং পরিকল্পনা করে চলা খুবই প্রয়োজন।
বৃশ্চিক রাশি
বৃশ্চিক রাশির জাতকদের জন্য এই সময় কর্মজীবন এবং ব্যবসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। কর্মক্ষেত্রে নতুন দায়িত্ব, পদোন্নতি অথবা ভালো সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
যারা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তারা হঠাৎ লাভ বা নতুন চুক্তির সম্ভাবনার মুখোমুখি হতে পারেন। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফল এই সময় পাওয়া যেতে পারে।
কুম্ভ রাশি
কুম্ভ রাশির জন্য এই সময় আর্থিক ক্ষেত্রে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে। শনির প্রভাব কিছুটা কমে যাওয়ায় অর্থ সঞ্চয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এই রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে সাড়ে সাতির শেষ পর্যায় চলতে পারে, তাই মানসিক চাপ ধীরে ধীরে কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় স্থিরতা বজায় রাখলে ভবিষ্যতে লাভ হতে পারে।
মীন রাশি
মীন রাশির জাতকদের জন্য এই সময় শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিতে পারে। কাজের চাপ বা মানসিক উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে।
এছাড়া শক্তি ও উদ্যম বাড়তে পারে, যার ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে মনোযোগ দেওয়া সহজ হতে পারে।
আরও পড়ুন :গুরু মার্গী ২০২৬: জুন পর্যন্ত ৫ রাশির জীবনে সৌভাগ্যের দরজা খুলবে, মিলবে অর্থ ও সাফল্য
এই সময় কী বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
জ্যোতিষশাস্ত্র মতে, কোনও গ্রহ অস্ত অবস্থায় থাকলে বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করাই ভালো। বিশেষ করে নতুন বিনিয়োগ, আইনি বিষয় বা বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভালোভাবে যাচাই করা উচিত।
মেষ ও কুম্ভ রাশির জাতকদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। যেকোনও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সম্পূর্ণ তথ্য জেনে এবং চিন্তা-ভাবনা করে এগোনো উচিত।
আরও পড়ুন :১৮ মার্চ বুধ উদয়: মেষ, তুলা ও কুম্ভ রাশির জীবনে আসছে সম্পদ ও সাফল্যের যোগ
জ্যোতিষীদের মতে, এই সময়টিতে ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং সংযম বজায় রাখাই সবচেয়ে ভালো কৌশল হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা এবং ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখলে অনেক ক্ষেত্রেই এই সময় নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.