সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে—৬৬ বছর বয়সে নাকি আবার মা হতে চলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী Neena Gupta। একটি অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতির ছবি দেখেই অনেক নেটিজেন এই জল্পনা শুরু করেন। তবে অভিনেত্রী নিজেই সেই জল্পনা হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি।
এক সাক্ষাৎকারে নীনা গুপ্ত জানান, সেই অনুষ্ঠানে তিনি একটি সাদা শাড়ি ও ব্লাউজ় পরে গিয়েছিলেন। শাড়ির কাপড় একটু মোটা হওয়ায় তাঁকে স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা ভারী দেখাচ্ছিল। এই কারণেই অনেকের মনে ভুল ধারণা তৈরি হয়। তিনি মজার ছলে বলেন, আসলে পোশাকের কারণেই এমন মনে হয়েছিল।
তবে এই গুজবের পরই আবার আলোচনায় উঠে আসে তাঁর জীবনের বহু পুরনো এক অধ্যায়—যে সময় তিনি সত্যিই অপ্রত্যাশিত ভাবে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছিলেন।
অপ্রত্যাশিত মাতৃত্বের সেই সময়
১৯৮৯ সালে নীনা গুপ্ত জানতে পারেন, তিনি মা হতে চলেছেন। সেই সময় তাঁর সম্পর্ক ছিল কিংবদন্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজ় ক্রিকেটার Viv Richards-এর সঙ্গে। কিন্তু তাঁদের সম্পর্ক বিয়েতে পরিণত হয়নি। ফলে সেই সময়ে সমাজের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী অবিবাহিত অবস্থায় সন্তানের জন্ম দেওয়ার সিদ্ধান্ত ছিল অত্যন্ত সাহসী।
তখনকার সামাজিক পরিস্থিতি আজকের মতো উদার ছিল না। একা মা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল বেশ কঠিন। তবুও নীনা গুপ্ত নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন এবং পরবর্তীতে তিনি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। সেই সন্তানই আজকের জনপ্রিয় ফ্যাশন ডিজাইনার Masaba Gupta।
নানা পরামর্শ, নানা চাপ
নীনা গুপ্ত পরে একাধিক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানার পর অনেকেই তাঁকে ভিন্ন ভিন্ন পরামর্শ দিয়েছিলেন। কেউ বলেছিলেন গর্ভপাত করাতে, আবার কেউ সতর্ক করেছিলেন যে একা সন্তানের দায়িত্ব নেওয়া খুব কঠিন হবে।
তিনি বলেন, সব পরামর্শই তিনি মন দিয়ে শুনেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তিনি নিজেকে প্রশ্ন করেছিলেন—তিনি কি সত্যিই এই সন্তানের জন্ম দিতে চান?
নিজের মনে উত্তর খুঁজতে গিয়েই তিনি বুঝতে পারেন, আসন্ন সন্তানকে নিয়ে তিনি ভীষণ খুশি। সেই অনুভূতিই তাঁকে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
সম্পর্ক নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি
নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে নীনা গুপ্ত বরাবরই খোলামেলা। অতীতের সম্পর্ক নিয়ে তাঁর মধ্যে কোনো তিক্ততা নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সত্যিকারের ভালোবাসা থাকলে কাউকে ঘৃণা করা সম্ভব নয়। সম্পর্ক শেষ হয়ে গেলেও মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা থাকা উচিত।
Viv Richards-এর প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, যদি সেই মানুষকে এতটাই অপছন্দ করতেন, তবে কি তাঁর সন্তানের মা হতেন? তাঁর মতে, ভালোবাসা থাকল বলেই সেই সম্পর্কের স্মৃতি আজও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।
সাহসী সিদ্ধান্তের উদাহরণ
আজকের দিনে নীনা গুপ্তের সেই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সাহস ও আত্মবিশ্বাসের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখেন। একা হাতে মেয়েকে বড় করা থেকে শুরু করে নিজের কেরিয়ারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া—সব ক্ষেত্রেই তিনি নিজস্ব পথ বেছে নিয়েছিলেন।
এই কারণেই তাঁর জীবনকাহিনি অনেকের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলালেও, সেই সময় নেওয়া তাঁর সিদ্ধান্ত আজও আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
গুজবের ঘটনাটি হয়তো সাময়িক, কিন্তু নীনা গুপ্তের জীবনের সেই বাস্তব অভিজ্ঞতা তাঁর সাহসী ব্যক্তিত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.