বলিউড অভিনেত্রী জারিন খান সম্প্রতি আবারও শিরোনামে। এক জনপ্রিয় পডকাস্টে এসে তিনি বলিউড ইন্ডাস্ট্রির কিছু অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ‘অকসর ২’ ছবির শুটিং চলাকালীন ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার কথা প্রকাশ্যে এনে তিনি বেশ বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন।
২০১০ সালে সুপারস্টার সালমান খানের বিপরীতে ‘বীর’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে আত্মপ্রকাশ করেছিলেন জারিন খান। প্রথম ছবিতেই তিনি নজর কেড়েছিলেন দর্শকদের। এরপর ধীরে ধীরে তিনি ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন। ‘হাউজফুল ২’ এবং ‘হেট স্টোরি ৩’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি আরও বেশি জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
তবে ‘হেট স্টোরি ৩’ ছবিতে সাহসী দৃশ্যে অভিনয়ের পর থেকেই পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে বলে দাবি করেন অভিনেত্রী। তাঁর কথায়, ওই ছবির পর থেকেই অনেকেই তাঁকে ভিন্ন চোখে দেখতে শুরু করেন। অনেকের মন্তব্য ছিল, তিনি নাকি অভিনয়ে দক্ষ নন, তাই সাহসী দৃশ্যে অভিনয় করছেন।
সম্প্রতি এক আলোচনায় জারিন জানান, ‘অকসর ২’ ছবির ক্ষেত্রে প্রথমে তাকে যে গল্প এবং দৃশ্যের বর্ণনা দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে শুটিং শুরু হওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তাঁর দাবি, পরিচালক প্রথমে বলেছিলেন ছবিতে তেমন সাহসী দৃশ্য থাকবে না। কিন্তু সেটে গিয়ে তিনি দেখেন প্রায় প্রতিটি দৃশ্যেই তাকে চুম্বনের মতো অন্তরঙ্গ মুহূর্তে অভিনয় করতে হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, হঠাৎ করেই তাকে এমন পোশাকে শুটিং করতে বলা হয় যা তার কাছে অস্বস্তিকর ছিল। এমনকি ব্রা পরে দৃশ্য ধারণের কথাও বলা হয়। এতে তিনি বিস্মিত হয়ে পড়েন, কারণ শুরুতে তাকে এমন কোনও বিষয় জানানো হয়নি।
জারিন জানান, তিনি পরিচালককে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্নও করেছিলেন। তার বক্তব্য ছিল, যদি দৃশ্যের প্রয়োজন হয় তাহলে অভিনয় করতে তার আপত্তি নেই। কিন্তু সমস্যা হলো তাকে যে স্ক্রিপ্টের কথা বলা হয়েছিল, সেটির সঙ্গে শুটিংয়ের বাস্তব পরিস্থিতির মিল ছিল না।
অভিনেত্রীর মতে, ‘হেট স্টোরি ৩’ ছবির বাণিজ্যিক সাফল্যের পরই নির্মাতারা সম্ভবত ছবির ধরন বদলে ফেলেছিলেন। আর সেই পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছিল ‘অকসর ২’-এর দৃশ্যধারণেও।
এই বিষয় নিয়ে শুটিং চলাকালীন কিছুটা মনোমালিন্যও তৈরি হয় বলে জানান জারিন। তবুও তিনি মাঝপথে কাজ ছেড়ে দেননি। কারণ তাঁর মতে, একজন পেশাদার শিল্পীর জন্য শুটিং ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
তবে সবকিছু সহ্য করে ছবির কাজ শেষ করলেও পরবর্তীতে সেই মনোমালিন্যের প্রভাব থেকেই যায়। জারিনের দাবি, ছবির বিশেষ প্রদর্শনী বা স্পেশাল স্ক্রিনিংয়েও তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
বলিউড ইন্ডাস্ট্রির অন্দরের নানা অভিজ্ঞতা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে জারিন খান আগে কখনও এত খোলামেলা কথা বলেননি। তার সাম্প্রতিক মন্তব্য আবারও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—চলচ্চিত্র জগতে অভিনেত্রীদের প্রতি আচরণ ও কাজের পরিবেশ ঠিক কতটা স্বচ্ছ।
এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিনোদন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই অভিনেত্রীর সাহসী স্বীকারোক্তিকে সমর্থন করছেন, আবার কেউ কেউ বিষয়টি নিয়ে ভিন্ন মতও প্রকাশ করছেন।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.