বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা Anupam Kher দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকদের কাছে পরিচিত তাঁর স্বতন্ত্র ব্যক্তিত্ব এবং আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতির জন্য। পর্দায় নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করলেও ব্যক্তিগত জীবনে তিনি নিজেকে যেভাবে তুলে ধরেছেন, সেটিও কম আলোচিত নয়। বিশেষ করে তাঁর মাথার চুল না থাকা বা ইন্দ্রলুপ্ত চেহারাটাই যেন তাঁর পরিচয়ের একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে বিনোদন জগতে অনেক অভিনেতা-অভিনেত্রীই সৌন্দর্য বাড়াতে বা তরুণ দেখাতে বিভিন্ন কসমেটিক পদ্ধতির সাহায্য নিচ্ছেন। এর মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় পদ্ধতি হল ‘হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট’ বা কেশ প্রতিস্থাপন। বহু তারকা প্রকাশ্যে এই পদ্ধতি গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন, আবার কেউ কেউ তা নিয়ে নীরব থাকেন। অনেক ক্ষেত্রেই এটি প্রচারের কৌশল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে কেশ প্রতিস্থাপন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে অনুপম খের স্পষ্টভাবে জানান, তাঁকে একাধিকবার এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন কেশ প্রতিস্থাপন সংস্থা তাঁকে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বলেছিল। কিন্তু তিনি সেই সব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।
অভিনেতার কথায়, তাঁর কাছে বহু আকর্ষণীয় অফার এলেও তিনি কখনও কেশ প্রতিস্থাপন করতে আগ্রহী হননি। তাই শুরু থেকেই তিনি সেগুলো ফিরিয়ে দিয়েছেন। মজার ছলে তিনি আরও বলেন, অনেক কেশ প্রতিস্থাপন সংস্থার কাছে তিনি যেন ‘স্বপ্নের মানুষ’, কারণ তাঁকে নিয়ে প্রচার করলে তা খুব সহজেই মানুষের নজর কাড়ত।
দীর্ঘ অভিনয়জীবনে বিভিন্ন চরিত্রের প্রয়োজনে মাঝে মাঝে তাঁকে পরচুলা ব্যবহার করতে দেখা গেছে। তবে বাস্তব জীবনে তিনি নিজের স্বাভাবিক চেহারাকেই গ্রহণ করেছেন। তাঁর মতে, কেশ প্রতিস্থাপন করলে তাঁর ব্যক্তিত্বে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, যা তাঁর নিজের কাছে মানানসই মনে হয় না।
এই প্রসঙ্গে তিনি পরিবারের কথাও উল্লেখ করেন। অভিনেতা জানান, ছোটবেলা থেকেই তাঁর ছেলে চাননি যে তিনি পরচুলা পরে সম্পূর্ণ ভিন্ন চেহারায় নিজেকে তুলে ধরুন। সেই কারণেও তিনি নিজের স্বাভাবিক পরিচয় বজায় রাখতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
অনুপম খেরের এই সিদ্ধান্ত অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে। বর্তমান সময়ে যখন বাহ্যিক পরিবর্তনের দিকে অনেকেই ঝুঁকছেন, তখন তিনি নিজের স্বাভাবিক রূপ ও ব্যক্তিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তাই যেন আবারও সামনে আনলেন। তাঁর মতে, আত্মবিশ্বাসই একজন মানুষের সবচেয়ে বড় শক্তি, আর সেটিই তাঁকে আলাদা করে চেনায়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.