ইদ মানেই আনন্দ, নতুন পোশাক, পরিবার-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটানো আর ভাগ করে নেওয়ার উৎসব। তবে ভারতের প্রাক্তন টেনিস তারকা Sania Mirza-র কাছে এবারের ইদ শুধু উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি গভীর জীবনবোধের শিক্ষা। তিনি চান তাঁর ছেলে Izhaan Mirza Malik ছোটবেলা থেকেই কৃতজ্ঞতা, বিনয় এবং মানুষের প্রতি সহানুভূতির মূল্য বুঝে বড় হয়ে উঠুক।
কৃতজ্ঞ থাকার শিক্ষা
সানিয়ার মতে, জীবনে বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক সময় মানুষ ছোট ছোট সুখের মূল্য ভুলে যায়। তাই তিনি ছেলেকে বোঝাতে চান— জীবনে যা আছে, তার জন্য সবসময় কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তাঁর বিশ্বাস, এই মানসিকতা মানুষকে শান্ত রাখে এবং অন্যদের প্রতি সংবেদনশীল হতে শেখায়।
তিনি মনে করেন, বর্তমান সময়ে পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। এই পরিবর্তনের ভিড়ে নিজের শিকড়, সংস্কৃতি এবং মানবিকতা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি। তাই ছোটবেলা থেকেই ইজহানের মধ্যে এই মূল্যবোধ তৈরি করার চেষ্টা করছেন তিনি।
মা-ছেলের ইদের মুহূর্ত
সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা কিছু ছবিতে দেখা যায়, মা ও ছেলে দুজনেই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে ইদের আনন্দ উদযাপন করছেন। এই মুহূর্তগুলো শুধু উৎসবের নয়, বরং তাদের সম্পর্কের উষ্ণতারও প্রকাশ।
সানিয়ার কথায়, ইজহান এখন ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে এবং পরিবার, ত্যাগ ও ভাগ করে নেওয়ার গুরুত্ব বুঝতে শিখছে। তাঁর কাছে ইদ মানে শুধু আনন্দ নয়, বরং ভালোবাসা এবং আশীর্বাদের জন্য কৃতজ্ঞ থাকা।
ব্যক্তিগত জীবনের ঝড়ের পর নতুন অধ্যায়
এক সময় খেলাধুলার জগতে ব্যস্ত থাকলেও পেশাদার টেনিস থেকে অবসর নেওয়ার পর এখন জীবনের বড় অংশটাই ছেলের জন্য ব্যয় করছেন সানিয়া। ব্যক্তিগত জীবনের নানা ওঠাপড়া সত্ত্বেও তিনি নিজের দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে যাননি।
২০১০ সালে ধুমধাম করে বিয়ে করেছিলেন সানিয়া এবং পাকিস্তানি ক্রিকেটার Shoaib Malik। দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে নানা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শুরুতে শোয়েবের নতুন বিয়ের খবর সামনে আসার পর তাদের বিচ্ছেদের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।
‘খুলা’ প্রক্রিয়ায় বিচ্ছেদ
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই বিচ্ছেদ সাধারণ ডিভোর্স নয়। ইসলামি আইনের একটি পদ্ধতি ‘খুলা’-র মাধ্যমে সানিয়াই আলাদা হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ সময় ধরে সম্পর্কের জটিলতা এবং নানা বিতর্কের পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বলে জানা যায়।
নতুন বিয়ের খবর ও সানিয়ার নীরব মর্যাদা
পরবর্তীতে শোয়েব মালিক পাকিস্তানি অভিনেত্রী Sana Javed-কে বিয়ে করেন। সেই খবর প্রকাশ্যে আসার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই সানিয়ার পাশে দাঁড়ান এবং তাঁর ধৈর্যের প্রশংসা করেন।
তবে এই পরিস্থিতিতে সানিয়া কোনো বিতর্কে না গিয়ে সংযতভাবেই নিজের বক্তব্য জানান। তিনি ইঙ্গিত দেন যে, কখনও কখনও বিচ্ছেদ কঠিন হলেও মানসিক শান্তি খুঁজে পাওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ।
ছেলের ভবিষ্যৎই এখন অগ্রাধিকার
বর্তমানে ইজহান মূলত মায়ের সঙ্গেই থাকে। তবে ছেলের জীবনে বাবার উপস্থিতিও বজায় রয়েছে। জানা যায়, ইজহানের ভবিষ্যৎ এবং মানসিক বিকাশের কথা ভেবেই দুজনেই যৌথভাবে অভিভাবকত্বের দায়িত্ব পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সানিয়া এখন মনে করেন, একজন সন্তানের সবচেয়ে বড় শিক্ষা আসে পরিবারের পরিবেশ থেকে। তাই তিনি চান, ইজহান যেন ভালো মানুষ হিসেবে বড় হয়— যে নিজের সাফল্যের জন্য কৃতজ্ঞ থাকবে এবং অন্যের পাশে দাঁড়াতে শিখবে।
এইভাবেই ইদের আনন্দের মধ্যেও ছেলেকে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ পাঠ শেখাচ্ছেন সানিয়া মির্জা— যা শুধু একটি পরিবারের গল্প নয়, বরং অনেক মানুষের কাছে অনুপ্রেরণার উদাহরণ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.