বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন জগতে আবারও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। জনপ্রিয় অভিনেতা Rahul Arunoday Banerjee-এর আকস্মিক মৃত্যুতে হতবাক সহকর্মী থেকে ভক্তরা। রবিবার (২৯ মার্চ) শ্যুটিংয়ের কাজে গিয়ে দিঘার তালসারি সমুদ্রসৈকতে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৪২ বছর।
অভিনয়ের পরিবেশেই বড় হওয়া

১৯৮৩ সালের ১৬ অক্টোবর জন্ম রাহুলের। তাঁর শৈশব ও পড়াশোনা মূলত কলকাতাতেই কেটেছে। নাকতলা হাইস্কুলে পড়াশোনা করার পর তিনি আশুতোষ কলেজ থেকে স্নাতক হন। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছিল পরিবার থেকেই। থিয়েটারের মঞ্চেই তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু। বাবার সঙ্গে “রাজ দর্শন” নামে একটি নাটকে বিজয়গড় থিয়েটার দলের হয়ে প্রথম অভিনয় করেন তিনি।
এই মঞ্চ অভিজ্ঞতাই পরবর্তীতে তাঁকে পর্দার সামনে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। থিয়েটারের দিনগুলোই ছিল তাঁর অভিনয় জীবনের ভিত গড়ার সময়।
সিনেমায় বড় সাফল্যের শুরু

২০০৮ সালে পরিচালক Raj Chakraborty-এর ছবি Chirodini Tumi Je Amar-এর মাধ্যমে টলিউডে আত্মপ্রকাশ করেন রাহুল। ছবিটি মুক্তির পরই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। নতুন মুখ হয়েও তাঁর অভিনয় নজর কেড়ে নেয়। ছবিতে তাঁর বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন Priyanka Sarkar। এই ছবির সাফল্যই রাহুলকে দ্রুত জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়।
এরপর একাধিক সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজস্ব জায়গা তৈরি করেন। পাশাপাশি টেলিভিশন ধারাবাহিকেও কাজ করেছেন। জি বাংলার জনপ্রিয় অনুষ্ঠান খেলা-য় আদিত্য চরিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকদের আরও কাছে পৌঁছে যান।
ধারাবাহিক, সিনেমা এবং নতুন উদ্যোগ
দীর্ঘ সময় ধরে সিনেমা ও সিরিয়াল—দুই মাধ্যমেই কাজ করেছেন রাহুল। মাঝখানে কিছুটা বিরতির পর আবারও টেলিভিশনে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি তাঁকে দেখা যাচ্ছিল ভোলে বাবা পার করেগা ধারাবাহিকে। এছাড়াও হরগৌরী পাইস হোটেল সিরিয়ালেও তাঁর কাজ দর্শকদের নজর কেড়েছিল।
অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি একটি পডকাস্ট অনুষ্ঠানও শুরু করেছিলেন—“সহজ কথা”। এই অনুষ্ঠানটিও বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল।
ব্যক্তিগত জীবনের গল্প
২০০৮ সালের ছবির শ্যুটিং থেকেই রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা সরকারের মধ্যে সম্পর্কের শুরু। পরে ২০১০ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। তাঁদের একমাত্র ছেলে সহজ। যদিও ২০১৭ সালে তাঁদের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, পরে আবার সম্পর্ক ঠিক হয় এবং পরিবার হিসেবে একসঙ্গেই থাকছিলেন তাঁরা।
দিঘায় শ্যুটিংয়ের সময় দুর্ঘটনা
জানা গেছে, ধারাবাহিকের শ্যুটিংয়ের জন্য পুরো টিম দিঘার তালসারিতে গিয়েছিল। শ্যুটিং শেষ হওয়ার পর রাহুল ও সিরিয়ালের নায়িকা সমুদ্রে নামেন। কিছুক্ষণ পর হঠাৎ টেকনিশিয়ানরা দেখতে পান তিনি বিপদে পড়েছেন। তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তখনও তিনি জীবিত ছিলেন বলে জানা যায়। কিন্তু দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়। প্রাথমিকভাবে ডুবে যাওয়াকেই মৃত্যুর কারণ হিসেবে মনে করা হচ্ছে, তবে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের পরই স্পষ্ট হবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।
ফেডারেশনের তরফে জানানো হয়েছে, শ্যুটিংয়ের পর তিনি মদ্যপান করেননি। সাঁতার না জানা, কিংবা সমুদ্রের চোরা বালিতে আটকে যাওয়া—এই ধরনের কারণেও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
অপূরণীয় শূন্যতা
রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আকস্মিক মৃত্যু বাংলা বিনোদন জগতে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখছেন অনেকেই। থিয়েটার থেকে সিনেমা, আবার ধারাবাহিক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখে গিয়েছেন তিনি। তাঁর হঠাৎ চলে যাওয়া সহকর্মী ও দর্শকদের কাছে গভীর শোকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.