অসুস্থ শরীরেও ভোট দিতে এলেন জুবিন গর্গের স্ত্রী, তুললেন ন্যায়বিচারের দাবি

অসম বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ঘিরে যখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় আবেগঘন এক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল গুয়াহাটি। শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর সরাসরি ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী জুবিন গর্গের স্ত্রী। ভোট দেওয়ার পর তিনি শুধু নাগরিক দায়িত্ব পালনের কথাই বলেননি, একই সঙ্গে প্রয়াত শিল্পীর মৃত্যুর ন্যায়বিচারের দাবিও তুলে ধরেছেন।

ভোটকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে তিনি জানান, মাত্র আগের দিনই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও ভোট দিতে আসার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ভোট দেওয়া প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব। আগে প্রায়ই জুবিন গর্গের সঙ্গে একসঙ্গে ভোট দিতে আসতেন, তবে এবার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। ব্যক্তিগত শোক, শারীরিক অসুস্থতা—সব কিছুর মাঝেও তিনি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়াকে জরুরি বলে মনে করেছেন।

তবে তাঁর বক্তব্যের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ ছিল জুবিন গর্গের মৃত্যুকে ঘিরে বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের জন্য লড়াই চালানো হচ্ছে। দ্রুত বিচার পাওয়ার আশাও প্রকাশ করেন তিনি। এই মন্তব্যে স্পষ্ট, শিল্পীর আকস্মিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে পরিবারের মানসিক লড়াই এখনও অব্যাহত।

এদিন অসম, কেরল এবং পুদুচেরীতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশেষ করে অসমের ভোট ছিল রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এখানে শক্তিশালী ফল করেছিল। ১২৬ আসনের অসম বিধানসভায় বিজেপি ৯৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৬০টি আসন জিতেছিল। অন্যদিকে, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছিল ৫০টি আসন, যার মধ্যে কংগ্রেস একাই জিতেছিল ২৯টি আসন। ফলে এবারের নির্বাচনেও অসমের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র আগ্রহ রয়েছে।

এই নির্বাচনী আবহের মধ্যেই আবার সামনে এসেছে জুবিন গর্গকে ঘিরে আবেগের স্মৃতি। অসমিয়া সংগীতজগতের অন্যতম উজ্জ্বল নাম ছিলেন তিনি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হন শিল্পী। সমুদ্র থেকে তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। আইসিইউতে চিকিৎসকদের নিরলস চেষ্টা সত্ত্বেও তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫২ বছর।

জানা গিয়েছিল, নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়ার জন্য সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন জুবিন গর্গ। ২০ সেপ্টেম্বর তাঁর মঞ্চে পারফর্ম করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই ঘটে যায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। তাঁর অকাল প্রয়াণ শুধু অসম নয়, গোটা দেশের সংগীতপ্রেমীদের গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়।

হিন্দি, অসমিয়া এবং বাংলা—তিন ভাষাতেই তাঁর অসামান্য জনপ্রিয়তা ছিল। ‘ইয়া আলি’, ‘দিল তু হি বাতা’-র মতো হিন্দি গান যেমন শ্রোতাদের মন জয় করেছে, তেমনই বাংলা গানের জগতেও তিনি রেখে গিয়েছেন বিশেষ ছাপ। ‘প্রেম আমার’, ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘খোকা ৪২০’-এর মতো জনপ্রিয় বাংলা ছবির গান আজও সংগীতপ্রেমীদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

তাঁর মৃত্যুতে ভক্তদের শোক এখনও কাটেনি। আর সেই আবেগই যেন নতুন করে সামনে এল নির্বাচনের দিনে। একদিকে গণতান্ত্রিক দায়িত্ব পালন, অন্যদিকে প্রিয় মানুষকে হারানোর বেদনা এবং তাঁর জন্য ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে জুবিন গর্গের স্ত্রীর ভোটদান যেন শুধুমাত্র রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নয়, ব্যক্তিগত সংগ্রামেরও এক প্রতীক হয়ে উঠল।

প্রতিবেদনটি ক্যানভাসে তৈরি করে দিলাম—সেখানে বাংলা ক্লিকবিট টাইটেল, ইংরেজি টাইটেল, সংক্ষিপ্ত বর্ণনা এবং কপিরাইট-নিরাপদ বিস্তৃত প্রতিবেদন সবই আছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক