বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সঙ্কট ক্রমশ তীব্র আকার নিচ্ছে, আর এই পরিস্থিতিকেই সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে রাশিয়া। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলি—যেমন ভারত ও বাংলাদেশ—যেখানে গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, সেখানে নিজেদের এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) রপ্তানি বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়েছে মস্কো।
এই লক্ষ্য পূরণে রাশিয়া বড়সড় কৌশল নিয়েছে—নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা এলএনজি প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম দামে অফার করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের স্পট দামের তুলনায় এই ছাড় যথেষ্ট আকর্ষণীয় বলেই মনে করা হচ্ছে। সূত্রের খবর, চিন ও রাশিয়ার কিছু ছোট মধ্যস্থতাকারী সংস্থার মাধ্যমে এই প্রস্তাব দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এমনকি এই গ্যাসের উৎস গোপন রাখতে নথিপত্রে দেখানো হতে পারে যে, তা ওমান বা নাইজেরিয়ার মতো অন্য দেশ থেকে এসেছে। যদিও এই প্রস্তাব এখন পর্যন্ত কোনও দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
অন্যদিকে, সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বিশ্ব গ্যাস সরবরাহে বড় ধাক্কা দিয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং কাতারের বৃহত্তম এলএনজি রপ্তানি কেন্দ্রে হামলার ফলে বিশ্বে প্রায় ২০ শতাংশ গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের দাম হু হু করে বেড়েছে।
কাতার থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় ভারত ও বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, বাংলাদেশ তাদের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৬০ শতাংশ কাতার থেকে করত। এখন তাদের স্পট মার্কেট থেকে অনেক বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে—অনেক ক্ষেত্রেই আগের চুক্তির তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে গ্যাসের ঘাটতি সরাসরি প্রভাব ফেলেছে শিল্পক্ষেত্রে, বিশেষ করে সার উৎপাদনে। ভারত ও বাংলাদেশ—উভয় দেশকেই গ্যাস সরবরাহ সীমিত করতে হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে কৃষি ও অর্থনীতিতে।
তবে রাশিয়ার এই ছাড়ের প্রস্তাব যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, তা গ্রহণে রয়েছে বড় বাধা। ভারত সাধারণত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকে। সরকার ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, ব্ল্যাকলিস্টেড প্রকল্প থেকে এলএনজি কেনা হবে না।
রাশিয়ার আর্কটিক এলএনজি ২ এবং পোর্তোভায়া প্রকল্প ইতিমধ্যেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায়। তবুও এই প্রকল্পগুলি থেকে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছে রাশিয়া। কিন্তু সম্ভাব্য মার্কিন প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কায় বেশিরভাগ দেশই সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে।
বর্তমানে চিনই একমাত্র বড় ক্রেতা, যারা তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’-এর মাধ্যমে এই এলএনজি আমদানি করছে। রাশিয়ার লক্ষ্য, এই পরিসর আরও বাড়িয়ে দক্ষিণ এশিয়ায় নতুন বাজার তৈরি করা। তবে জাহাজের অভাব, ক্রেতাদের অনীহা এবং রাজনৈতিক চাপ—সব মিলিয়ে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সহজ হচ্ছে না।
সবশেষে বলা যায়, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মাঝে রাশিয়া নতুন সুযোগ খুঁজছে ঠিকই, কিন্তু নিষেধাজ্ঞা ও ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ এই পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.