টলিউডে সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ঘটনায় উত্তেজনা তুঙ্গে। বিশেষ করে অভিনেতা Rahul Arunoday Banerjee-এর অকাল মৃত্যু ঘিরে গোটা ইন্ডাস্ট্রিতে তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। প্রতিবাদ, ক্ষোভ, দায়বদ্ধতা—সব মিলিয়ে যেন এক অস্থির পরিস্থিতির জন্ম দিয়েছে এই ঘটনা। এই প্রেক্ষাপটেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অভিনেতা Jeetu Kamal।
রাহুলের মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রির বহু শিল্পী নানাভাবে প্রতিবাদে সামিল হন। কেউ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন, কেউ সংশ্লিষ্ট প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। তবে জীতুর প্রতিবাদের ধরন ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তিনি নিজের একটি ছবিতে মালা পরিয়ে প্রতীকী প্রতিবাদ জানান, যা অনেকের কাছেই অস্বাভাবিক ও বিতর্কিত মনে হয়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয় কটাক্ষের ঝড়। অভিনেতা Abhrajit Chakraborty এবং অভিনেত্রী Mousumi Bhattacharya-সহ ইন্ডাস্ট্রির একাংশ সরাসরি বা পরোক্ষে জীতুর এই পদক্ষেপকে প্রশ্নবিদ্ধ করেন। কেউ বলেন, সময় ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝা উচিত ছিল, আবার কেউ এটিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ বলেও মন্তব্য করেন।
তবে বিতর্কের মাঝেই জীতু নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন। শুধু প্রতীকী প্রতিবাদেই থেমে না থেকে, টেকনিশিয়ানদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তাও দেন তিনি। ধর্মঘটের আবহে যখন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন বহু কর্মী, তখন তাঁদের সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ফের আলোচনায় আসেন এই অভিনেতা।
১০ এপ্রিল জীতু একটি ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায় তিনি তাপস চক্রবর্তী নামের এক টেকনিশিয়ানকে ৩৩ হাজার টাকা আর্থিক সাহায্য করেছেন। এই পোস্টের মাধ্যমে তিনি সমালোচকদের উদ্দেশ্যে সরাসরি বার্তা দেন।
নিজের লেখায় তিনি স্পষ্ট করে জানান, যারা তাঁর প্রতিবাদকে অযৌক্তিক বলেছিলেন, তাঁদের উচিত এই উদ্যোগকে ‘সৎ প্রচেষ্টা’ হিসেবে দেখা। একই সঙ্গে তিনি ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, আগে যেমন সমালোচনা করেছিলেন, এখন তেমনভাবেই প্রশংসাও করবেন বলে আশা করেন।
জীতুর পোস্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর ‘আত্মপ্রচার’ প্রসঙ্গ। তিনি নিজেই স্বীকার করেন যে, সমালোচনার জবাব দিতে এবার থেকে তিনি নিজের কাজ তুলে ধরবেন প্রকাশ্যে। অর্থাৎ, সমালোচনাকে হাতিয়ার করেই নিজের অবস্থান আরও জোরালো করতে চাইছেন তিনি।
অন্যদিকে, মৌসুমী ভট্টাচার্য তাঁর প্রতিক্রিয়ায় স্পষ্ট ভাষায় বলেন, শোকের মুহূর্তে এই ধরনের প্রতিবাদ শোভন নয়। একইভাবে অভ্রজিৎও সময়, স্থান ও পরিস্থিতির গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে জীতুর পদক্ষেপের সমালোচনা করেন।
যদিও এর আগেই তাঁদের বক্তব্যের জবাব দিয়েছিলেন জীতু, কিন্তু এবার সরাসরি কাজের মাধ্যমে এবং ‘আত্মপ্রচার’-এর পথে হেঁটে তিনি যেন নতুনভাবে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন।
সব মিলিয়ে, রাহুলের মৃত্যুর পর টলিউডে যে বিতর্কের সূচনা হয়েছে, তা এখনও থামার কোনও লক্ষণ নেই। বরং জীতু কমলের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই বিতর্কে আরও নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এখন দেখার, এই পাল্টাপাল্টি মন্তব্য ও অবস্থানের লড়াই ভবিষ্যতে কোন দিকে মোড় নেয়।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.