উচ্চ রক্তচাপ বা হাই ব্লাড প্রেসারের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত হৃদ্রোগ, স্ট্রোক কিংবা কিডনির সমস্যার কথাই বেশি উঠে আসে। তবে চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘ দিন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চোখের উপরও মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে। এমনকি ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। এই সমস্যাকেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি’।
চোখের পিছনের অংশে থাকা রেটিনা অত্যন্ত সূক্ষ্ম রক্তনালির মাধ্যমে কাজ করে। এই রক্তনালিগুলিই চোখে রক্ত ও অক্সিজেন পৌঁছে দেয়। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে রক্তচাপ বেশি থাকলে ওই রক্তনালিগুলির উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। ফলে রক্তনালিগুলি ধীরে ধীরে সরু হয়ে যেতে পারে, শক্ত হয়ে যেতে পারে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এর জেরে রেটিনায় স্বাভাবিক রক্তসঞ্চালন ব্যাহত হয় এবং দৃষ্টিশক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে এই রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে স্পষ্ট কোনও উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে চোখের ভিতরে ক্ষতি শুরু হলেও অনেকেই তা বুঝতে পারেন না। কিন্তু সমস্যা বাড়তে থাকলে কিছু সতর্কবার্তা সামনে আসতে পারে।

যে উপসর্গগুলি দেখা দিতে পারে সেগুলির মধ্যে রয়েছে—
• দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাওয়া
• ঘন ঘন বা একটানা মাথাব্যথা
• চোখে চাপ অনুভব হওয়া
• চোখে অস্বস্তি বা ভারী ভাব
চিকিৎসকদের বক্তব্য, হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি অনেক সময় নীরবে ক্ষতি করে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বছরে অন্তত এক বার চোখ পরীক্ষা করলে রেটিনার রক্তনালির পরিবর্তন ধরা পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই চোখ পরীক্ষা করতে গিয়েই প্রথম জানা যায় যে, রোগীর দীর্ঘ দিন ধরে উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে।
এই রোগের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা। নিয়মিত রক্তচাপ মাপা, চিকিৎসকের পরামর্শমতো ওষুধ খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমানো, ধূমপান এড়ানো, নিয়মিত শরীরচর্চা করা এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার উপরও জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। পর্যাপ্ত জল পান ও সুষম খাদ্যাভ্যাসও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের মতে, উচ্চ রক্তচাপকে অবহেলা করলে তা শুধু হৃদ্যন্ত্র বা কিডনি নয়, চোখের জন্যও বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই সময়মতো সতর্ক হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।