বলিউডের জনপ্রিয় কৌতুক অভিনেতা Rajpal Yadav দর্শকদের হাসাতে পারলেও তাঁর ব্যক্তিগত জীবন একসময় গভীর দুঃখে আচ্ছন্ন ছিল। কেরিয়ারের শুরুর দিকে পরিবারের পছন্দে তিনি করুণা নামের এক তরুণীকে বিয়ে করেন। কিন্তু সুখের সেই সংসার বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে করুণার মৃত্যু হয়, যা অভিনেতার জীবনে এক ভয়াবহ আঘাত হয়ে আসে।
স্ত্রীর আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়লেও তিনি নিজের মেয়েকে নিয়ে নতুনভাবে বাঁচার চেষ্টা শুরু করেন। দীর্ঘ সময় তিনি একাই সন্তানকে বড় করেন এবং জীবনের এই কঠিন সময় পার করেন নিঃসঙ্গভাবে।

একাকীত্বের মাঝে নতুন ভালোবাসার আগমন
প্রথম স্ত্রীর মৃত্যুর পর প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় কেটে যায়। এরপর ২০০২ সালে ‘দ্য হিরো’ ছবির শুটিংয়ের জন্য কানাডায় গিয়ে তাঁর জীবনে আসে এক নতুন মোড়। সেখানেই তাঁর পরিচয় হয় Radha Yadav-এর সঙ্গে, যিনি তখন কানাডায় বসবাস করতেন।

প্রথম দেখাতেই দু’জনের মধ্যে এক অদ্ভুত টান তৈরি হয়। যদিও তখন কেউই ভাবেননি যে এই পরিচয় ভবিষ্যতে গভীর সম্পর্কে রূপ নেবে। শুটিং শেষে রাজপাল ভারতে ফিরে এলেও তাঁদের যোগাযোগ থামেনি। ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে সম্পর্ক আরও গভীর হতে থাকে।
দূরত্ব পেরিয়ে সম্পর্কের জয়
দুই ভিন্ন দেশের সময়ের ব্যবধান সত্ত্বেও প্রায় ১০ মাস ধরে তাঁদের দূরত্বের সম্পর্ক চলতে থাকে। অবশেষে বড় সিদ্ধান্ত নেন রাধা—সব ছেড়ে ভারতে চলে আসেন তিনি। এই সিদ্ধান্তই তাঁদের সম্পর্ককে নতুন পথে এগিয়ে দেয়।

তবে এই সম্পর্ক সহজ ছিল না। রাজপাল ও রাধার বয়সের ব্যবধান প্রায় ১৩ বছর হওয়ায় রাধার পরিবার প্রথমদিকে আপত্তি জানিয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সব বাধা কাটিয়ে ওঠেন তাঁরা।
নতুন জীবনের সূচনা
২০০৩ সালে রাজপাল যাদব ও রাধা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন রাধার বয়স ছিল মাত্র ১৮ বছর। বিয়ের পরও যেন রাধার পড়াশোনা বন্ধ না হয়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন রাজপাল। রাধা পরে লন্ডন ও দুবাইয়ে থেকে ইন্টিরিয়র ডিজাইনিং নিয়ে পড়াশোনা সম্পূর্ণ করেন।

পরিবার ও ভালোবাসার বন্ধন
রাধা শুধু রাজপালের স্ত্রী হিসেবেই নয়, তাঁর প্রথম পক্ষের মেয়ে জ্যোতিকেও নিজের সন্তানের মতো করে বড় করে তুলেছেন। এই দিকটি তাঁদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তুলেছে।
রাজপাল এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি মূলত রাধার পছন্দ করা পোশাকই পরেন। এমনকি একবার কানাডায় নিজের মাপের পোশাক না পেয়ে রাধা তাঁকে শিশুদের বিভাগ থেকে পোশাক কিনে দিয়েছিলেন—যা আজও তাঁদের জীবনের একটি মজার স্মৃতি।
ভালোবাসা, সংগ্রাম আর স্থায়িত্বের গল্প
দুঃখ, একাকীত্ব, দূরত্ব—সব বাধা পেরিয়ে রাজপাল যাদব ও রাধার সম্পর্ক আজ ২৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে অটুট। এই গল্প শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত জীবনের নয়, বরং জীবনের কঠিন সময়েও ভালোবাসা কীভাবে নতুন আলো দেখাতে পারে, তারই এক উজ্জ্বল উদাহরণ।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.