UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা ভারতের অন্যতম কঠিন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা হিসেবে পরিচিত। এই পরীক্ষায় সফল হতে গেলে শুধু মেধা নয়, প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস এবং সঠিক পরিকল্পনা। সেই কঠিন পথ পেরিয়েই অবশেষে সাফল্য পেয়েছেন রাজস্থানের টঙ্ক শহরের বাসিন্দা সাক্ষী জৈন। তাঁর এই যাত্রা আজ বহু পরীক্ষার্থীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।
স্থিতিশীল চাকরি ছেড়ে নতুন স্বপ্ন
সাক্ষী জৈন পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট। তিনি একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছিলেন। স্থায়ী ও নিরাপদ কেরিয়ার থাকা সত্ত্বেও তিনি উপলব্ধি করেন যে, সমাজের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করতে চান। সেই ভাবনা থেকেই তিনি UPSC সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
কোভিডের মধ্যেই শুরু প্রস্তুতি
কোভিড-১৯ মহামারির সময় থেকেই তিনি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের সাহায্যে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান। নিজের ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে বেছে নেন কমার্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেন্সি এবং সেই বিষয়ে বিশেষ কোর্সও করেন।
ব্যর্থতা থেকে শেখা, এগিয়ে চলা
২০২১ সালে প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিলেও সফল হতে পারেননি। তবে তিনি থেমে থাকেননি। ২০২২ থেকে ২০২৫—এই চার বছরে প্রতিবারই প্রিলিমিনারি ও মেইনস পাশ করে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছান। যদিও চূড়ান্ত তালিকায় নাম ওঠেনি, তবুও প্রতিটি ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তিনি নিজের প্রস্তুতিকে আরও শক্তিশালী করেছেন।
অবশেষে পঞ্চম প্রচেষ্টায় তিনি সাফল্য অর্জন করেন এবং অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ৩৭ লাভ করেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ইন্টারভিউ বোর্ডে তিনি ছিলেন শেষ প্রার্থী—তবুও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে নিজের সেরাটা তুলে ধরেন।
শারীরিক ও মানসিক ফিটনেসের গুরুত্ব
দীর্ঘ প্রস্তুতির সময় শারীরিক ও মানসিক চাপ সামলানো সহজ ছিল না। তাই সাক্ষী নিয়মিত যোগব্যায়াম করতেন এবং হাঁটাহাঁটির অভ্যাস বজায় রাখতেন। তিনি মনে করেন, সুস্থ শরীর ও মন না থাকলে দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি চালানো সম্ভব নয়।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
সাক্ষীর লক্ষ্য শুধুমাত্র প্রশাসনিক পদে কাজ করা নয়। তিনি বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে আর্থিক সচেতনতা বাড়ানোর বিষয়ে কাজ করতে চান। তাঁর মতে, সমাজে এখনও আর্থিক শিক্ষার অভাব রয়েছে এবং এই বিষয়ে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।
UPSC পরীক্ষার্থীদের জন্য তাঁর পরামর্শ
সাক্ষী জৈন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, UPSC প্রস্তুতির মূল ভিত্তি হল সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিষ্কার পরিকল্পনা। তাঁর মতে—
সিলেবাস ভালোভাবে বোঝা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নপত্র নিয়মিত বিশ্লেষণ করা উচিত
নিজের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা উন্নত করা প্রয়োজন
ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সাফল্যের মূল চাবিকাঠি
অনুপ্রেরণার বার্তা
সাক্ষী জৈনের এই সাফল্যের গল্প প্রমাণ করে যে, একবার ব্যর্থ হলেই সব শেষ নয়। বরং ধৈর্য, অধ্যবসায় এবং নিজের উপর বিশ্বাস থাকলে বহুবার ব্যর্থ হওয়ার পরেও সফল হওয়া সম্ভব। তাঁর এই যাত্রা ভবিষ্যতের UPSC পরীক্ষার্থীদের জন্য এক বড় প্রেরণা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.