একসময় লম্বা চেহারা আর গতি দিয়ে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ভীত করে তোলা আফগানিস্তানের পেসার শাপুর জ়াদরান এখন জীবনের সবচেয়ে কঠিন লড়াইয়ের মুখোমুখি। দিল্লির একটি হাসপাতালে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন, আর চিকিৎসকদের মতে তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটজনক।
জ়াদরান আক্রান্ত হয়েছেন বিরল ও মারাত্মক রোগ হেমোফাগোসাইটিক লিম্ফোহিস্টিয়োসাইটোসিস (এইচএলএইচ)-এ। এই রোগে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধীরে ধীরে ভেঙে পড়ে, ফলে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সাধারণত শিশুদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা গেলেও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এটি সংক্রমণ বা ক্যানসারের জেরে হতে পারে। বর্তমানে তিনি রোগের চতুর্থ পর্যায়ে রয়েছেন, যা জীবনহানির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
জানা গেছে, গত জানুয়ারি মাসে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে দিল্লিতে নিয়ে আসা হয়। আফগানিস্তানের চিকিৎসকদের পরামর্শেই ভারতে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড এবং তারকা ক্রিকেটার রশিদ খানের উদ্যোগে দ্রুত ভিসার ব্যবস্থা হওয়ায় চিকিৎসা শুরু করতে দেরি হয়নি। ১৮ জানুয়ারি তিনি দিল্লিতে ভর্তি হন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী এবং প্রাক্তন সতীর্থ আসগর আফগান। পরে কানাডা থেকে এসে যোগ দেন তাঁর ভাই।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রথমদিকে চিকিৎসায় কিছুটা সাড়া দিয়েছিলেন জ়াদরান। কয়েক সপ্তাহ পর তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়, যদিও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে কাছাকাছি হোটেলে থাকতে হয়। কিন্তু সেই স্বস্তি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। প্রায় ২০ দিনের মধ্যেই সংক্রমণ ফের জটিল আকার নেয় এবং তাঁকে আবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়।
পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় যখন নতুন করে পেটের তীব্র ব্যথা শুরু হয়। হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর দেখা যায় তিনি ডেঙ্গুতেও আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, তাঁর শরীরে সংক্রমণ এতটাই ছড়িয়েছে যে তা মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান রিপোর্টে সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।
বর্তমানে জ়াদরানের অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি ঠিকভাবে কথা বলতে পারছেন না, অধিকাংশ সময় ঘুমিয়ে থাকছেন। গত কয়েক মাসে প্রায় ১৪ কেজি ওজন কমে গেছে তাঁর। শরীরের দুর্বলতা এবং সংক্রমণের তীব্রতা মিলিয়ে চিকিৎসার পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
একসময় মাঠে যিনি প্রতিপক্ষের জন্য আতঙ্ক ছিলেন, আজ তিনি নিজেই জীবনের সঙ্গে লড়াই করছেন। ক্রিকেট দুনিয়া তাঁর দ্রুত সুস্থতা কামনা করলেও বাস্তব পরিস্থিতি যে খুব একটা আশাব্যঞ্জক নয়, তা স্পষ্ট চিকিৎসকদের কথাতেই।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than four years.