বিশ্ব রাজনীতির মঞ্চে নতুন করে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞানীদের একের পর এক রহস্যমৃত্যু ও অন্তর্ধান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), হাইপারসনিক অস্ত্র, ড্রোন প্রযুক্তি এবং পরমাণু গবেষণার মতো অতি সংবেদনশীল ক্ষেত্রে যুক্ত ব্যক্তিদের এই অস্বাভাবিক ঘটনাগুলি ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে—এগুলি কি শুধুই কাকতালীয়, নাকি কোনও সুপরিকল্পিত গোপন অভিযান?
আমেরিকায় উদ্বেগ বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে অন্তত ১১ জন প্রতিরক্ষা-সংক্রান্ত বিজ্ঞানীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি এতটাই গুরুত্ব পেয়েছে যে, দেশের প্রধান তদন্তকারী সংস্থা ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে।
রাজনৈতিক মহলেও উদ্বেগ স্পষ্ট। মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপর্যায় থেকে শুরু করে আইন প্রণেতারা পর্যন্ত এই ঘটনাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বিশ্ব রাজনীতিতে প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতা যখন তুঙ্গে, তখন এই ধরনের ঘটনা নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর প্রশ্ন তুলছে।
চিনেও রহস্যমৃত্যুর নজির
শুধু আমেরিকাই নয়, চিনেও গত কয়েক বছরে একাধিক প্রতিরক্ষা বিজ্ঞানীর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ৯ জন বিজ্ঞানীর মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালে এক সামরিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘিরে সন্দেহ তৈরি হয়। সরকারি ভাবে ঘটনাটিকে কর্তব্যরত অবস্থায় আত্মত্যাগ বলা হলেও, বাইরের বিশ্লেষকদের একাংশ এর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন।
২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যেও ড্রোন ও হাইপারসনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত একাধিক বিজ্ঞানীর মৃত্যুর ঘটনা সামনে এসেছে, যা ঘটনাগুলিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।
গোপন সংঘাতের ইঙ্গিত?
বিশ্বের বড় শক্তিগুলির মধ্যে প্রযুক্তিগত আধিপত্যের লড়াই নতুন কিছু নয়। অতীতে এমন অভিযোগ উঠেছে যে, কিছু দেশ প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি থামাতে গোপন অভিযান চালিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিও সেই ধারারই প্রতিফলন হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে সরাসরি প্রমাণ মেলেনি, তবুও ঘটনাগুলির ধারাবাহিকতা সন্দেহ উস্কে দিচ্ছে।
তদন্তের দিকে নজর
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন তদন্তের ফলাফলের দিকে। সত্যিই কি এটি নিছক দুর্ঘটনার সমষ্টি, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনও নিঃশব্দ প্রযুক্তি যুদ্ধ—তা সময়ই বলবে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, আধুনিক বিশ্বের ক্ষমতার লড়াই এখন শুধু সীমান্তে নয়, বিজ্ঞানের অন্দরে এবং গবেষণাগারেও লড়া হচ্ছে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.