বর্তমান সময়ে কম্পিউটার, মোবাইল ও ট্যাবের ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে বিনোদন—সব ক্ষেত্রেই দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়। এর প্রভাবে অনেকেই চোখ জ্বালা, শুষ্কতা, অতিরিক্ত জল পড়া, ঝাপসা দেখা কিংবা চোখে ব্যথার মতো সমস্যায় ভুগছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের নিয়মিত যত্নের পাশাপাশি কিছু সহজ যোগাভ্যাস চোখকে আরাম দিতে এবং চোখের পেশির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে।
তবে মনে রাখতে হবে, যোগাসন কোনও চোখের রোগের চিকিৎসার বিকল্প নয়। দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া, ছানি, গ্লকোমা বা অন্য কোনও সমস্যা থাকলে অবশ্যই চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
১. ত্রাটক: চোখের একাগ্রতা ও আরামের অনুশীলন

ত্রাটক এমন একটি যোগপদ্ধতি, যেখানে নির্দিষ্ট একটি বিন্দু বা আলোর দিকে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকা হয়। এর দুটি প্রচলিত ধরন রয়েছে।
বাহ্য ত্রাটক: অন্ধকার ঘরে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে তার শিখার দিকে যতক্ষণ সম্ভব পলক না ফেলে তাকিয়ে থাকতে হয়। এরপর চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে হবে। এই অনুশীলন চোখের মনোযোগ বাড়াতে এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন ব্যবহারের পরে চোখকে কিছুটা আরাম দিতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
অন্তঃত্রাটক: আরাম করে বসে চোখ বন্ধ করে দুই ভ্রুর মাঝখানে মানসিকভাবে দৃষ্টি স্থির করার চেষ্টা করা হয়। এটি ধ্যানের একটি অংশ হিসেবেও পরিচিত এবং মনোসংযোগ বাড়াতে সাহায্য করতে পারে।
২. সর্বাঙ্গাসন: রক্তসঞ্চালন বাড়াতে সহায়ক
সর্বাঙ্গাসনে শরীরকে এমনভাবে রাখা হয়, যাতে কাঁধের উপর ভর দিয়ে পা উপরের দিকে থাকে। এই ভঙ্গিতে মাথা ও মুখের দিকে রক্তসঞ্চালন বাড়ে বলে মনে করা হয়, যা চোখের আশপাশের টিস্যু ও স্নায়ুর কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে।
তবে যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ, ঘাড়ের সমস্যা, হার্টের অসুখ বা চোখের রেটিনার জটিলতা রয়েছে, তাঁদের চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত যোগশিক্ষকের পরামর্শ ছাড়া এই আসন করা উচিত নয়।
৩. শাম্ভবী মুদ্রা: মনোযোগের সঙ্গে চোখের ব্যায়াম
এই অনুশীলনে আরাম করে বসে ধীরে ধীরে চোখ খুলে দুই ভ্রুর মাঝখানে দৃষ্টি স্থির করার চেষ্টা করা হয়। চোখে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। অস্বস্তি বা ব্যথা অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে হবে।
নিয়মিত ও সঠিকভাবে অনুশীলন করলে মনোসংযোগ বৃদ্ধির পাশাপাশি চোখের পেশিরও হালকা ব্যায়াম হয় বলে যোগবিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
চোখ সুস্থ রাখতে আরও কিছু অভ্যাস জরুরি
*শুধু যোগাভ্যাস নয়, চোখের সুরক্ষায় কয়েকটি সাধারণ নিয়মও মেনে চলা প্রয়োজন।
*দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে কাজ করলে নির্দিষ্ট বিরতি নিন।
*পর্যাপ্ত আলোতে মোবাইল বা কম্পিউটার ব্যবহার করুন।
*অন্ধকার ঘরে দীর্ঘ সময় মোবাইল দেখা এড়িয়ে চলুন।
*পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
*চোখে ঝাপসা দেখা, ব্যথা বা দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন হলে দ্রুত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
নিয়মিত যোগাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন এবং সময়মতো চোখের পরীক্ষা—এই তিনের সমন্বয়ই দীর্ঘদিন চোখ ভালো রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.