Lifestyle: মুখে কালো দাগ শুধু প্রসাধনীর কারণে নয়, পুষ্টির ঘাটতিও হতে পারে বড় কারণ

মুখে কালচে ছোপ, চোখের নীচে দাগ কিংবা ঠোঁটের চারপাশে ত্বকের রং বদলে গেলে অনেকেই প্রথমে দায় দেন রোদ, দূষণ বা প্রসাধনীকে। ফলে সমস্যার সমাধানে নানা ধরনের ক্রিম, সিরাম বা ব্যয়বহুল বিউটি ট্রিটমেন্টের দিকে ঝোঁক বাড়ে। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ত্বকের এই পরিবর্তনের পিছনে অনেক সময়েই লুকিয়ে থাকে শরীরের পুষ্টির ঘাটতি। অর্থাৎ, ত্বকের সমস্যা কখনও কখনও শরীরের ভিতরের অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিতও হতে পারে।
ভারতীয়দের ত্বকে স্বাভাবিক ভাবেই মেলানিনের পরিমাণ বেশি থাকে। ফলে হাইপারপিগমেন্টেশন বা ত্বকের নির্দিষ্ট অংশ কালচে হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এর সঙ্গে যদি যোগ হয় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা, হরমোনের ওঠানামা কিংবা পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব— তা হলে ত্বকের দাগছোপ আরও দ্রুত স্পষ্ট হয়ে উঠতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য নষ্ট করে এবং কালো দাগ তৈরির ঝুঁকি বাড়ায়।

ভিটামিন বি১২-এর অভাব
ভিটামিন বি১২ কমে গেলে শরীরে দুর্বলতা, ক্লান্তির পাশাপাশি ত্বকের বিভিন্ন অংশে কালচে দাগ দেখা দিতে পারে। মুখ, হাত বা আঙুলের গাঁটের অংশে রং গাঢ় হয়ে যাওয়া এর অন্যতম লক্ষণ। এই ভিটামিন মেলানিন নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ঘাটতি হলে মেলানিন উৎপাদন বেড়ে গিয়ে ত্বকে অসমান রং তৈরি হয়। নিরামিষাশী ও ভিগানদের মধ্যে এই সমস্যার ঝুঁকি বেশি, কারণ বি১২ মূলত প্রাণীজ খাবার থেকেই পাওয়া যায়।

ভিটামিন ডি কম থাকলে
ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, ত্বকের সুরক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরে এই ভিটামিন কমে গেলে ত্বক সূর্যের অতিবেগনি রশ্মির ক্ষতি থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। ফলে মুখে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কালো ছোপ দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এই ঘাটতি থাকলে ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতাও কমে যায়।

আয়রনের ঘাটতি
আয়রনের অভাবে রক্তাল্পতা তৈরি হলে তার প্রভাব সবচেয়ে আগে ধরা পড়ে ত্বকে। মুখ ফ্যাকাশে দেখায়, চোখের নীচে কালো ভাব বাড়ে এবং ত্বক নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, আয়রনের অভাব ত্বকের প্রদাহজনিত সমস্যাও বাড়িয়ে দিতে পারে।

ফোলেট বা ভিটামিন বি৯-এর অভাব
কোষের পুনর্গঠন ও ত্বকের মেরামতির জন্য ফোলেট অত্যন্ত জরুরি। এই ভিটামিন কমে গেলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি ত্বকে দ্রুত প্রভাব ফেলে। ফলে মুখ ও শরীরে অসমান কালো দাগ তৈরি হতে পারে। ত্বক ক্লান্ত ও বিবর্ণ দেখাতেও শুরু করে।

জিঙ্কের ঘাটতি
ত্বকের ক্ষত সারানো এবং প্রদাহ কমাতে জিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শরীরে জিঙ্ক কমে গেলে ব্রণের দাগ সহজে মিলিয়ে যেতে চায় না। পাশাপাশি ত্বকে জ্বালা, রুক্ষভাব এবং অতিরিক্ত পিগমেন্টেশনের সমস্যাও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শুধু প্রসাধনী ব্যবহার করলেই ত্বকের সমস্যা পুরোপুরি মেটে না। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন, শাকসবজি, ফল, আয়রন ও ভিটামিনসমৃদ্ধ খাবার রাখা জরুরি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান, সঠিক ঘুম এবং নিয়মিত রোদ থেকে সুরক্ষাও ত্বক ভাল রাখার জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ভিতর থেকে সুস্থ থাকলে তবেই ত্বকও স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে পায়।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক