রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় বড়সড় প্রশাসনিক পরিবর্তনের পথে হাঁটল নতুন সরকার। রাজ্যের সমস্ত সরকারি কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতিদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেছে উচ্চশিক্ষা দফতর। একইসঙ্গে কলেজ পরিচালন সমিতিতে থাকা সরকারি প্রতিনিধিদেরও অবিলম্বে অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত প্রায় দেড় দশক ধরে রাজ্যের বহু সরকারি কলেজের পরিচালন সমিতির শীর্ষপদে ছিলেন তৎকালীন শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক নেতা, বিধায়ক, সাংসদ ও মন্ত্রীরা। অভিযোগ ছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব ক্রমশ বেড়েছে এবং কলেজ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা নষ্ট হয়েছে। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই এবার নতুন করে পরিচালন সমিতি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কারের ইঙ্গিত মিলছিল। শিক্ষা ক্ষেত্রে দুর্নীতি, নিয়োগে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধীদের অভিযোগ ছিল সরব। চাকরিপ্রার্থীদের আন্দোলন থেকে শুরু করে আদালতের পর্যবেক্ষণ— সব মিলিয়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে চাপ বাড়ছিল প্রশাসনের উপর।
এই আবহেই সম্প্রতি কসবা আইন কলেজে এক ছাত্রীর উপর গণধর্ষণের অভিযোগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছিল কলেজে রাজনৈতিক প্রভাব ও ছাত্রনেতাদের দাপট নিয়ে। সেই ঘটনায় আদালতও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার উপর গুরুত্ব দেয়। কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন মন্তব্য করেছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থাকে নিরপেক্ষ রাখা প্রয়োজন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের প্রায় সাড়ে চারশো সরকারি কলেজের অধিকাংশ পরিচালন সমিতিতেই এতদিন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। কোথাও একজন নেতার হাতে একাধিক কলেজের দায়িত্বও ছিল। এবার সেই কাঠামোয় বদল এনে নতুন পরিচালন সমিতি তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করতে চাইছে সরকার।
শিক্ষামহলের একাংশ মনে করছে, এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কলেজ প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব কমতে পারে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়তে পারে। তবে বিরোধী শিবিরের দাবি, শুধুমাত্র পদ পরিবর্তন নয়, শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক সংস্কারই এখন সবচেয়ে জরুরি।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.