সুইডেনের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মান ‘অর্ডার অফ দ্য পোলার স্টার’ পেলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী Narendra Modi। এই সম্মান গ্রহণের পর তিনি জানান, এটি কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের সম্মান এবং ভারত-সুইডেন সম্পর্ককে শক্তিশালী করতে যাঁরা কাজ করেছেন তাঁদের সকলের স্বীকৃতি।
সুইডেনের শিল্পনগরী গোথেনবার্গে আয়োজিত ইউরোপিয়ান রাউন্ড টেবিল ফর ইন্ডাস্ট্রি (ইআরটি)-র এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ভারত ও সুইডেনের সম্পর্ক গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, আইনের শাসন এবং মানবকেন্দ্রিক উন্নয়নের ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। দুই দেশই উদ্ভাবন ও স্থিতিশীল উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দেয় এবং গণতন্ত্রকে নিজেদের শক্তি হিসেবে বিবেচনা করে।
বৈঠকে ভারত ও সুইডেন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও গভীর করে কৌশলগত অংশীদারিত্বের স্তরে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেয়। প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রযুক্তি, সবুজ শক্তি, স্বাস্থ্যসেবা, পরিকাঠামো এবং ডিজিটাল খাতে দুই দেশের সহযোগিতা আগামী দিনে আরও বাড়বে।

ইউরোপের শীর্ষ শিল্পপতি ও বহুজাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ইউরোপীয় সংস্থাগুলিকে ভারতে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সংস্কারমূলক পদক্ষেপ এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভারত-ইউরোপ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারত-ইউরোপ সহযোগিতার রূপরেখা তুলে ধরেন। এই ক্ষেত্রগুলি হল— টেলিকম ও ডিজিটাল পরিকাঠামো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টর, পরিচ্ছন্ন শক্তি ও সবুজ রূপান্তর, আধুনিক পরিকাঠামো ও পরিবহণ এবং স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনবিজ্ঞান।
তিনি প্রস্তাব দেন যে ভারত ও ইউরোপের শিল্প সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করতে নিয়মিত সিইও গোলটেবিল বৈঠক, খাতভিত্তিক ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং ভারতে বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলির জন্য বিশেষ সহায়ক ব্যবস্থার ব্যবস্থা করা উচিত।
গোথেনবার্গের এই বৈঠককে ভারত-ইউরোপ সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ভবিষ্যতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে দুই পক্ষের সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.