একসময় ভারতের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল ঘোড়ায় টানা টাঙা। বাজারে যাওয়া, কাছের শহরে পৌঁছানো কিংবা দৈনন্দিন কাজে যাতায়াত—সব ক্ষেত্রেই এই ঐতিহ্যবাহী যান ছিল মানুষের নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে মোটরচালিত যানবাহনের প্রসার ঘটতে শুরু করলে ধীরে ধীরে টাঙার ব্যবহার কমে যায়। অটো, বাস ও অন্যান্য দ্রুতগতির পরিবহণ ব্যবস্থা মানুষের কাছে বেশি সুবিধাজনক হয়ে ওঠায় টাঙা প্রায় হারিয়েই যেতে বসেছিল।
একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় যখন টাঙা আর নিয়মিত যাতায়াতের মাধ্যম না থেকে পর্যটকদের বিনোদনের অংশে পরিণত হয়। অনেক টাঙা চালক জীবিকা সংকটে পড়ে ঘোড়া বিক্রি করার কথাও ভাবতে বাধ্য হন। কেউ কেউ আবার পেশা পরিবর্তনের পথও বেছে নেন।
তবে বর্তমানে পরিস্থিতির বদল দেখা যাচ্ছে জম্মু-কাশ্মীরে। জ্বালানির ক্রমবর্ধমান দাম ও পেট্রোল-ডিজেল সাশ্রয়ের প্রয়োজনীয়তার কারণে আবারও টাঙার ব্যবহার বাড়তে শুরু করেছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী শহর আরএস পুরায় এখন রাস্তায় বহু টাঙা চলতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয় মানুষও স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে এই পরিবহণ মাধ্যম ব্যবহার করছেন।
এই পরিবর্তনের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে প্রশাসনের উদ্যোগও। জম্মু-কাশ্মীরের পরিবহণমন্ত্রী নিজেই টাঙায় চড়ে যাতায়াত করে সাধারণ মানুষের কাছে পরিবেশবান্ধব ও জ্বালানি সাশ্রয়ী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। তাঁর এই উদ্যোগের ফলে অনেকের মধ্যেই আবার টাঙার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
টাঙার পুনরুজ্জীবনে সবচেয়ে বেশি উপকৃত হচ্ছেন টাঙা চালকরা। এতদিন ঘোড়ার রক্ষণাবেক্ষণের খরচ বহন করাই ছিল তাঁদের বড় চিন্তা। এখন যাত্রী বাড়ায় সেই খরচের একটা বড় অংশ উঠে আসছে আয় থেকে। ফলে বহু পুরনো চালক আবার নতুন করে টাঙা পরিষ্কার করে রাস্তায় নামাচ্ছেন।
শুধু জ্বালানি সাশ্রয় নয়, এই উদ্যোগের মাধ্যমে এক পুরনো ঐতিহ্যও নতুন জীবন পাচ্ছে। টাঙা ফিরিয়ে আনছে অতীতের স্মৃতি, একইসঙ্গে অনেক পরিবারের জীবিকাও রক্ষা করছে। জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন এলাকায় এখন টাঙা আর শুধুই বিনোদনের বাহন নয়, বরং মানুষের প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পরিবহণ ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠছে।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.