বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে আরও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করল ভারত। দেশের ইতিহাসে প্রথমবার কোনও বন্যপ্রাণীর শরীরে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসিয়ে তার চলাফেরা ও জীবনযাত্রার তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই অভিনব প্রকল্পের সূচনা হয়েছে অত্যন্ত বিপন্ন প্রজাতির এক কচ্ছপকে কেন্দ্র করে।
সম্প্রতি অসমের কাজিরাঙা অঞ্চলে একটি পূর্ণবয়স্ক গ্যাঞ্জেস সফটশেল টার্টলকে শনাক্ত করা হয়। বিশেষ আকৃতির মাথার জন্য এই কচ্ছপকে ‘বোহেড টার্টল’ নামেও ডাকা হয়। আন্তর্জাতিক স্তরে এই প্রজাতিকে বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলে তাদের সংরক্ষণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বনকর্মী ও পশু চিকিৎসকদের উপস্থিতিতে কচ্ছপটির শরীরে অত্যাধুনিক স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করার পর সেটিকে আবার ব্রহ্মপুত্র নদের উত্তর তীরবর্তী প্রাকৃতিক পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই স্যাটেলাইট ট্যাগের মাধ্যমে বিজ্ঞানী ও বনদপ্তর কচ্ছপটির গতিবিধি, বাসস্থান পরিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস এবং নদীকেন্দ্রিক পরিবেশের সঙ্গে তার সম্পর্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে পারবেন। ভবিষ্যতে এই তথ্য বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সফটশেল কচ্ছপ জলজ বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নদী, পুকুর বা জলাশয়ে থাকা মৃত ও পচনশীল প্রাণীদেহ খেয়ে তারা জল পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। ফলে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় থাকে।
ভারতে মোট আট ধরনের সফটশেল কচ্ছপের দেখা মেলে, যার মধ্যে পাঁচটি প্রজাতিই অসমের বিভিন্ন অঞ্চলে পাওয়া যায়। তাই এই উদ্যোগ শুধু একটি প্রাণীকে ঘিরে নয়, বরং বৃহত্তর পরিবেশ সংরক্ষণের দিকেও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বন্যপ্রাণ রক্ষায় প্রযুক্তির এই ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও বহু বিপন্ন প্রাণী সংরক্ষণে নতুন পথ দেখাতে পারে বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.