বর্তমান সময়ে অনিদ্রা যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে বহু মানুষের। রাত গভীর পর্যন্ত মোবাইল ফোনে স্ক্রল করা, সমাজমাধ্যমে সময় কাটানো কিংবা ওয়েব সিরিজ় দেখে রাত জাগা— এগুলি অনেকেরই দৈনন্দিন অভ্যাস। কিন্তু এই অভ্যাস যে ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক বিশ্রাম প্রক্রিয়াকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তা অনেকেই বুঝতে পারেন না। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শুধু ক্লান্তিই নয়, শরীর ও মনের উপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুম কোনও বিলাসিতা নয়, বরং সুস্থ থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত। প্রতিদিন অন্তত ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা টানা গভীর ঘুম শরীরকে পুনরুজ্জীবিত হতে সাহায্য করে। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে মেরামত করে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। ফলে পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে একাধিক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, কম ঘুমিয়েও তাঁরা দিব্যি সুস্থ আছেন। কিন্তু দীর্ঘদিন এমন অভ্যাস চলতে থাকলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে শরীরে প্রকাশ পেতে শুরু করে। ক্লান্তি, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মনোযোগের অভাব, উদ্বেগ বা হরমোনজনিত সমস্যা— সব কিছুর পিছনেই ঘুমের অভাব দায়ী হতে পারে।
অনিদ্রা দূর করতে প্রথমেই বদল আনতে হবে জীবনযাপনে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর চা, কফি বা চকোলেট খাওয়ার অভ্যাস কমানো জরুরি। এই ধরনের খাবারে থাকা ক্যাফিন শরীরে মেলাটোনিন নামের ঘুম-সহায়ক হরমোনের কার্যকারিতায় বাধা সৃষ্টি করে। ফলে রাতে সহজে ঘুম আসে না। তাই সন্ধ্যার পর ক্যাফিনজাত খাবার এড়িয়ে চললে শরীর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দে ফিরতে পারে।
শুধু তাই নয়, ঘুমের সময় মোবাইল ফোন, ওয়াইফাই রাউটার বা অন্যান্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি থেকে দূরে থাকাও গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকে, ফলে ঘুমের ছন্দ ব্যাহত হয়। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করেন, ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ইলেকট্রোম্যাগনেটিক প্রভাবও ঘুমের গুণমান কমিয়ে দিতে পারে।
রাতে ঘুমোনোর আগে একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি করাও উপকারী। হালকা স্ট্রেচিং, গরম জলে স্নান, বই পড়া কিংবা শান্ত সুরের গান শোনা স্নায়ুকে শিথিল করতে সাহায্য করে। এতে মন শান্ত হয় এবং ঘুম সহজে আসে।
এ ছাড়া প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস তৈরি করলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা বডি ক্লক ঠিকভাবে কাজ করে। এতে শরীর নিজেই বুঝে নেয় কখন বিশ্রামের প্রয়োজন, ফলে ধীরে ধীরে অনিদ্রার সমস্যা কমতে শুরু করে।
অতএব, ওষুধের উপর নির্ভর না করে জীবনযাপনে ছোট ছোট পরিবর্তন আনলেই অনেক ক্ষেত্রে অনিদ্রা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। সুস্থ শরীর ও শান্ত মনের জন্য নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত ঘুমের কোনও বিকল্প নেই।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.