লন্ডনের এক রক্ষণশীল পঞ্জাবি পরিবারে বড় হওয়া সপনা পব্বীর স্বপ্ন ছিল অভিনয় জগতে নিজের পরিচিতি তৈরি করা। ফিন্যান্স নিয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি প্রথমে বিজ্ঞাপনের জগতে কাজ শুরু করেন। বার্মিংহামে পড়াশোনার সময় থেকেই মডেলিং ও ফ্যাশন প্রচারের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। পরে অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নিতে মাত্র ২২ বছর বয়সে মুম্বইয়ে চলে আসেন।
বলিউডে কোনও পরিচিত মুখ না থাকায় শুরুটা সহজ ছিল না। তবে ধীরে ধীরে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নজর কাড়েন সপনা। বিরাট কোহলি, অর্জুন রামপাল ও ইয়ামি গৌতমের মতো পরিচিত মুখের সঙ্গে বিজ্ঞাপনে কাজ করার সুযোগ পান তিনি। এরপর ছোটপর্দার জনপ্রিয় সিরিজ় ‘২৪’-এ অভিনয়ের সুযোগ আসে। সেই সিরিজ়ে অনিল কপূরের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে কপূর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়েছিল তাঁর।
ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল, অনিল কপূরের ছেলে হর্ষবর্ধন কপূরের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন সপনা। এমনকি কপূর পরিবারের বাড়িতেও তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল বলে শোনা যায়। তবে সেই সম্পর্ক নিয়ে নাকি আপত্তি ছিল পরিবারেরই একাংশের। বলিউড মহলের দাবি, হর্ষবর্ধনের কেরিয়ারের শুরুতেই ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হোক, তা চাননি অনিল কপূর। সেই কারণেই পরিবার থেকে চাপ তৈরি হয় এবং শেষ পর্যন্ত সম্পর্ক ভেঙে যায় বলে জল্পনা ছড়ায়। যদিও পরে হর্ষবর্ধন প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন, সপনা তাঁর কেবলই বন্ধু।

২০১৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘খামোশিয়াঁ’ ছবির মাধ্যমে বড়পর্দায় মুখ্য চরিত্রে দেখা যায় সপনাকে। ছবিটি তাঁকে পরিচিতি দিলেও বলিউডে স্থায়ী জায়গা করে দিতে পারেনি। একাধিক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, ‘আউটসাইডার’ হওয়ার কারণে নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে তাঁকে। বিদেশে বড় হওয়ার কারণে তাঁর হিন্দি উচ্চারণ নিয়েও কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। এমনকি, অনেক সময় সহকর্মীদের কাছ থেকেও সহযোগিতার বদলে খারাপ ব্যবহার পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন অভিনেত্রী।
‘মিটু’ আন্দোলনের সময়ও নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনেন সপনা। তাঁর দাবি ছিল, নারী হওয়ার কারণে শুটিং সেটে অনেক সময় তাঁর মতামত গুরুত্ব পেত না। এমনকি, কঠিন পরিস্থিতিতে অন্য মহিলা সহকর্মীদের কাছ থেকেও সমর্থন পাননি তিনি।

হিন্দি ছবিতে সেভাবে সুযোগ না মিললেও ওয়েব সিরিজ়ের জগতে কাজ করেছেন সপনা। ‘দ্য ট্রিপ’, ‘ইনসাইড এজ’ ও ‘ব্রিদ’-এর মতো সিরিজ়ে অভিনয় করে নজর কাড়েন তিনি। পাশাপাশি তেলুগু ও পঞ্জাবি ছবিতেও অভিনয় করেছেন।
২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ড্রাইভ’ ছবিতে সুশান্ত সিংহ রাজপুতের সঙ্গে কাজ করেছিলেন সপনা। ২০২০ সালে সুশান্তের মৃত্যুর পর মাদক সংক্রান্ত তদন্তে তাঁর নামও উঠে আসে। এনসিবি তাঁকে তলব করলে তিনি দেশে ছিলেন না। সেই সময় তাঁকে নিয়ে ‘নিখোঁজ’ হওয়ার জল্পনাও তৈরি হয়েছিল। পরে অভিনেত্রী জানান, তিনি লন্ডনে পরিবারের সঙ্গে ছিলেন এবং তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগও করেছিলেন।
দীর্ঘ বিরতির পর ফের বড়পর্দায় ফিরছেন সপনা পব্বী। অনুরাগ কাশ্যপ পরিচালিত ‘বন্দর’ ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। পাশাপাশি পঞ্জাবি ছবিতেও তিনি কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। বলিউডে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও অভিনয় জগত থেকে নিজেকে সরিয়ে নেননি সপনা। সংগ্রাম, বিতর্ক ও ব্যর্থতার মাঝেও নিজের জায়গা তৈরি করার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.