গঙ্গা দশহরা ২০২৬ কবে? জেনে নিন শুভ স্নান-দানের মুহূর্ত, পুজোর নিয়ম ও ধর্মীয় মাহাত্ম্য

সনাতন ধর্মে গঙ্গা দশহরা অত্যন্ত পবিত্র একটি তিথি হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতি বছর জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লপক্ষের দশমী তিথিতে এই উৎসব পালিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনেই দেবী গঙ্গার মর্ত্যে আগমন ঘটে। মানবজাতির পাপমোচন এবং পৃথিবীর কল্যাণের উদ্দেশ্যে স্বর্গ থেকে গঙ্গার অবতরণ হয়েছিল বলে পুরাণে উল্লেখ রয়েছে। তাই গঙ্গা দশহরা শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও পুণ্য অর্জনেরও বিশেষ দিন।

গঙ্গা দশহরা ২০২৬ কবে?

জ্যোতিষ গণনা অনুসারে, ২০২৬ সালে জ্যৈষ্ঠ শুক্ল দশমী তিথিতেই গঙ্গা দশহরা পালিত হবে। উদয়া তিথিকে গুরুত্ব দিয়ে মে মাসের শেষভাগ বা জুনের শুরুর দিকে এই উৎসব উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিভিন্ন পঞ্জিকায় নির্দিষ্ট সময় ও দিন উল্লেখ করা হবে।

কেন এত গুরুত্বপূর্ণ এই দিন?

পুরাণ অনুযায়ী, রাজা ভগীরথ কঠোর তপস্যা করে দেবী গঙ্গাকে পৃথিবীতে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরে মহাদেব শিব তাঁর জটায় গঙ্গার প্রবল স্রোত ধারণ করেন এবং সেখান থেকেই গঙ্গার মর্ত্যে অবতরণ ঘটে। সেই স্মরণেই গঙ্গা দশহরা উদযাপন করা হয়।

বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে গঙ্গাস্নান করলে জীবনের বহু পাপ থেকে মুক্তি মেলে এবং পূর্বপুরুষদের আশীর্বাদ লাভ হয়। বিশেষ করে দান-পুণ্যের মাধ্যমে অক্ষয় ফল লাভের কথাও শাস্ত্রে উল্লেখ আছে।

স্নান ও দানের শুভ সময়

গঙ্গা দশহরার দিনে ভোরের ব্রহ্মমুহূর্ত থেকে স্নান ও পূণ্যকর্ম শুরু করা শুভ বলে ধরা হয়। তবে সূর্যোদয়ের পর থেকে দুপুরের আগের সময়টিকে সবচেয়ে শুভ মুহূর্ত হিসেবে গণ্য করা হয়। এই সময় গঙ্গাস্নান, সূর্যকে অর্ঘ্য প্রদান এবং দান করলে বিশেষ পুণ্য লাভ হয় বলে বিশ্বাস।

যাঁদের গঙ্গায় স্নান করা সম্ভব নয়, তাঁরা বাড়িতে স্নানের জলে অল্প গঙ্গাজল মিশিয়েও আচার পালন করতে পারেন।

গঙ্গা দশহরায় ১০ দানের বিশেষ মাহাত্ম্য

‘দশহরা’ শব্দের মধ্যে ‘দশ’ সংখ্যাটির বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। শাস্ত্র মতে, এই দিনে ১০ ধরনের পাপ নাশ হয়। সেই কারণে ১০টি সামগ্রী দানের রীতি প্রচলিত আছে।

এই দিনে সাধারণত জল, অন্ন, ফল, বস্ত্র, ছাতা, জুতো, হাতপাখা, ঘি, শস্য ও সুপুরি দান করা শুভ বলে মনে করা হয়। যদি সবকিছু দান করা সম্ভব না হয়, তবে যেকোনো একটি জিনিস ১০ জন অভাবী মানুষকে দান করলেও সমান পুণ্য লাভ হয় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস।

কীভাবে করবেন গঙ্গা দশহরার পুজো?

সকালে স্নান করে পরিষ্কার বস্ত্র পরিধান করুন।
সূর্যদেবকে জল, তিল ও আতপ চাল অর্পণ করুন।
মা গঙ্গার ধ্যান করে বিশেষ মন্ত্র জপ করুন।
সন্ধ্যায় ঘিয়ের প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতি করলে শুভ ফল পাওয়া যায়।
সামর্থ্য অনুযায়ী দান ও ব্রাহ্মণ ভোজন করানোও অত্যন্ত শুভ বলে ধরা হয়।

গঙ্গা দশহরার আধ্যাত্মিক বার্তা

গঙ্গা দশহরা মানুষের অন্তরের পবিত্রতা ও ইতিবাচক শক্তির প্রতীক। এই দিনে স্নান, জপ, দান ও উপাসনার মাধ্যমে জীবনের নেতিবাচকতা দূর হয় এবং পরিবারে সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় থাকে বলে ভক্তদের বিশ্বাস।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক