রাজ্যের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) মেটানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার থেকেই কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত কর্মীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে বকেয়া ডিএ-র টাকা জমা পড়তে শুরু করেছে। আপাতত ২০০৮ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের বকেয়া অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে খবর।
তবে এখনও পর্যন্ত কর্মরত সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা পৌঁছয়নি। ফলে সক্রিয় কর্মীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা এবং ক্ষোভ দুটোই বাড়ছে। তাঁদের অনেকেই এখন তাকিয়ে রয়েছেন আগামী ১ জুনের বৈঠকের দিকে। ওইদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, সেখানেই কর্মরত কর্মীদের বকেয়া ডিএ প্রদানের রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্টে চলছে ডিএ মামলা
ডিএ সংক্রান্ত বিতর্ক এখনও দেশের শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন। সাম্প্রতিক শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট রাজ্য সরকারের কাছে জানতে চায়, বকেয়া ডিএ মেটানোর প্রক্রিয়া কতদূর এগিয়েছে। রাজ্যের পক্ষ থেকে কিছুটা সময় চাওয়া হয়। একই সঙ্গে কর্মচারী সংগঠনগুলিও আদালতকে জানায়, সরকার আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের দিন নির্ধারিত হয়েছে। সেই কারণেই অতিরিক্ত সময়ের আবেদন করা হয়।
সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর সুপ্রিম কোর্ট মামলার শুনানি পিছিয়ে জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে নিয়ে যায়। আদালত রাজ্য সরকারকে একটি বিস্তারিত স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে।
অবসরপ্রাপ্তদের টাকা দেওয়া শুরু হওয়ায় আশাবাদী কর্মীরা
সরকারি কর্মচারীদের একাংশ মনে করছেন, বৈঠকের আগেই অবসরপ্রাপ্তদের বকেয়া ডিএ দেওয়া শুরু হওয়া ইতিবাচক ইঙ্গিত। কর্মচারী সংগঠনের নেতাদের মতে, এটি দীর্ঘ আন্দোলনের ফল এবং আদালতের চাপও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতারা জানিয়েছেন, অবসরপ্রাপ্তদের পাশাপাশি বর্তমানে কর্মরত কর্মচারীদের প্রাপ্য ডিএ দ্রুত মিটিয়ে দেওয়াও জরুরি। তাঁদের বক্তব্য, শুধু একটি অংশকে টাকা দিয়ে সমস্যার সম্পূর্ণ সমাধান হবে না।
অন্যদিকে শিক্ষক, শিক্ষাকর্মী এবং গ্রান্ট-ইন-এইডভুক্ত কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাঁদের অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত তাঁরা কোনও অর্থ পাননি। অতীতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের কিছু বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হলেও, এবারও তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন বলে দাবি উঠেছে।
২৫ শতাংশ বকেয়া মেটানোর নির্দেশ ছিল
সুপ্রিম কোর্ট আগেই নির্দেশ দিয়েছিল, পুরনো বকেয়া ডিএ-র অন্তত ২৫ শতাংশ দ্রুত পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি বাকি অর্থ ধাপে ধাপে মেটানোর কথাও বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর করতেই কি এখন অবসরপ্রাপ্তদের টাকা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও সরকারিভাবে স্পষ্ট কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘদিনের আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু ডিএ
রাজ্যে ডিএ ইস্যু গত কয়েক বছর ধরে অন্যতম বড় প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক বিতর্কে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় হারে ডিএ প্রদানের দাবি তুলে সরকারি কর্মচারীরা আদালতের দ্বারস্থ হন। কলকাতা হাই কোর্ট থেকে সেই মামলা পরে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছায়।
কর্মচারী সংগঠনগুলির অভিযোগ ছিল, আদালতের নির্দেশ সত্ত্বেও সরকার দীর্ঘদিন বকেয়া মেটায়নি। এমনকি আদালত অবমাননার অভিযোগ তুলে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেও নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়। বর্তমানে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও প্রশান্ত কুমার মিশ্রের বেঞ্চে সেই মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এখন সব নজর ১ জুনের বৈঠকে। কারণ সেই আলোচনার পরই পরিষ্কার হতে পারে—কর্মরত সরকারি কর্মচারীরা কবে থেকে তাঁদের বহু প্রতীক্ষিত বকেয়া ডিএ হাতে পাবেন।ভাইরাল বাংলা টাইটেল

Hello, I am BB. I have been working in blogging for more than five years.