সময় জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাই ঘরের দেওয়ালে টাঙানো একটি সাধারণ ঘড়িকেও অনেকেই শুধুমাত্র সময় দেখার যন্ত্র হিসেবে নয়, বরং দৈনন্দিন জীবনের প্রতীক হিসেবেও বিবেচনা করেন। বাস্তুশাস্ত্রের বিভিন্ন মত অনুসারে, ঘড়ির অবস্থান, আকৃতি এবং অবস্থা ঘরের পরিবেশ ও মানসিক স্বস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করা হয়।
বাস্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘড়ি এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে তা সহজে চোখে পড়ে এবং ঘরের স্বাভাবিক শক্তির প্রবাহে বাধা সৃষ্টি না করে। বিশেষত দক্ষিণমুখী দেওয়ালে ঘড়ি টাঙানোকে অনেকেই অনুকূল মনে করেন না। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিক স্থিতিশীলতার প্রতীক হওয়ায় এখানে ঘড়ি রাখলে কাজের গতি বা উন্নতির পথে বাধা তৈরি হতে পারে।
একইভাবে, ঘরের প্রবেশদ্বারের ঠিক উপরে ঘড়ি ঝোলানোর বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। বাস্তুমতে, এমন অবস্থান ঘরের স্বাভাবিক ইতিবাচক পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে এবং বাসিন্দাদের মনে অযথা চাপ বা অস্বস্তির অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

ঘরে যদি কোনও অচল বা বন্ধ ঘড়ি থেকে যায়, তা দ্রুত মেরামত বা সরিয়ে ফেলার পরামর্শ দেন অনেক বাস্তুবিদ। তাঁদের মতে, থেমে থাকা ঘড়ি প্রতীকীভাবে জীবনের অগ্রগতিও থামিয়ে দেওয়ার বার্তা বহন করে। একই কারণে ঘড়ির সময় ইচ্ছাকৃতভাবে পিছিয়ে রাখাও নিরুৎসাহিত করা হয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রতীক হিসেবেই ঘড়িকে সঠিকভাবে সচল রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
ঘড়ির বাহ্যিক অবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ফাটা বা ভাঙা কাচযুক্ত ঘড়ি ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ এটি শুধু দেখতে খারাপ নয়, নিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। পাশাপাশি তীক্ষ্ণ কোণযুক্ত বা অস্বাভাবিক আকৃতির ঘড়ির বদলে গোলাকার, চৌকো বা ডিম্বাকৃতির ঘড়ি অনেক বেশি জনপ্রিয় এবং বাস্তুতেও এগুলিকে ইতিবাচক বলে বিবেচনা করা হয়।
রঙের ক্ষেত্রেও কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়। হালকা রঙের ঘড়ি, বিশেষ করে সাদা বা আকাশি রঙের ডিজাইন, ঘরের পরিবেশকে শান্ত ও উজ্জ্বল করে তুলতে সাহায্য করে বলে অনেকের বিশ্বাস।
বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, ঘড়ি রাখার জন্য উত্তর ও পূর্ব দিককে সবচেয়ে শুভ বলে ধরা হয়। উত্তর দিককে আর্থিক অগ্রগতির প্রতীক এবং পূর্ব দিককে নতুন সুযোগ ও ইতিবাচক সূচনার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। ফলে এই দুই দিকে ঘড়ি স্থাপন করলে ঘরের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত বলে মনে করা হয়।
তবে মনে রাখা জরুরি, বাস্তুশাস্ত্র মূলত বিশ্বাস ও ঐতিহ্যভিত্তিক একটি পদ্ধতি। এর দাবিগুলির বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। তাই ঘড়ি কোথায় রাখবেন, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে ঘরের ব্যবহারিক প্রয়োজন, সৌন্দর্যবোধ এবং ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্যকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিত।