দীর্ঘ ভ্রমণের পরিকল্পনা শুরু হলেই ব্যাগ গোছানোর ব্যস্ততা বেড়ে যায়। পোশাক, প্রয়োজনীয় ওষুধ, চার্জার কিংবা নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা জিনিসের তালিকায় সাধারণত টেনিস বলের নাম থাকে না। কিন্তু অভিজ্ঞ অনেক ভ্রমণপ্রেমীর মতে, দীর্ঘ সময়ের যাত্রায় একটি ছোট্ট টেনিস বল সঙ্গে রাখা বেশ উপকারী হতে পারে।
ট্রেন, বাস, বিমান বা ব্যক্তিগত গাড়িতে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অস্বস্তি তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে কোমর, নিতম্ব, ঘাড়, কাঁধ এবং পায়ের পেশিতে চাপ পড়ে। অনেক সময় রক্তসঞ্চালন কমে গিয়ে পায়ে ঝিনঝিনে অনুভূতিও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে টেনিস বল সাময়িক স্বস্তি দিতে সাহায্য করতে পারে।
কোমর ও নিতম্বের অস্বস্তি কমাতে

একটানা বসে থাকলে শরীরের নিচের অংশে চাপ সবচেয়ে বেশি পড়ে। টেনিস বলটি কোমরের একপাশে রেখে হালকা চাপ দিয়ে ধীরে ধীরে ঘোরালে সংশ্লিষ্ট পেশিতে ম্যাসাজের মতো প্রভাব তৈরি হয়। একইভাবে অন্য পাশেও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে পেশির টান কিছুটা কমতে পারে এবং রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।
ঘাড় ও কাঁধের চাপ কমানোর উপায়
দীর্ঘ যাত্রায় অনেকেরই ঘাড় ও কাঁধে ব্যথা বা শক্তভাব অনুভূত হয়। সিটের ব্যাকরেস্ট যদি যথেষ্ট উঁচু হয়, তাহলে ঘাড়ের নিচের অংশে টেনিস বল রেখে শরীরকে ধীরে ধীরে তার উপর ভর দেওয়া যেতে পারে। এরপর শরীরকে সামান্য উপর-নিচ বা ডান-বাঁ দিকে নাড়ালে পেশির জড়তা কমতে সাহায্য করে।
পায়ের ঝিনঝিনে ভাব দূর করতে
একটানা বসে থাকার কারণে পায়ের পাতায় অস্বস্তি বা অবশ ভাব তৈরি হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জুতো খুলে পায়ের নিচে টেনিস বল রেখে ধীরে ধীরে সামনে-পিছনে বা বৃত্তাকারে গড়ানো যেতে পারে। কয়েক মিনিট এভাবে করলে পায়ের পেশিতে আরাম মিলতে পারে এবং রক্তপ্রবাহ সক্রিয় রাখতে সহায়তা করে।
কখন সতর্ক থাকবেন?
তবে সবার জন্য এই পদ্ধতি উপযুক্ত নয়। যদি শরীরের কোনও অংশে পুরনো চোট, প্রদাহ বা গুরুতর ব্যথা থাকে, তাহলে টেনিস বল ব্যবহার করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এছাড়া পাহাড়ি বা অত্যন্ত উঁচুনিচু রাস্তায় চলন্ত গাড়িতে ঘাড়ের পিছনে বল ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। হঠাৎ ঝাঁকুনি বা তীব্র বাঁকের কারণে ঘাড়ে অতিরিক্ত চাপ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
মনে রাখবেন
টেনিস বল কোনও চিকিৎসা পদ্ধতির বিকল্প নয়। এটি মূলত অস্থায়ী আরাম দিতে সাহায্য করে। তাই দীর্ঘ যাত্রার সময় সুযোগ পেলেই কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করা, শরীর স্ট্রেচ করা এবং পর্যাপ্ত জল পান করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে সামান্য জায়গা নেওয়া এই ছোট্ট বলটি ভ্রমণের পথে আপনাকে অনেকটাই স্বস্তি দিতে পারে।