গরমকালে অতিরিক্ত ঘাম, ধুলো ও রোদে চুলের স্বাভাবিক আর্দ্রতা দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। ফলে চুল হয়ে ওঠে রুক্ষ, নিষ্প্রাণ ও ভঙ্গুর। অনেকেই বাজারচলতি বিভিন্ন তেল ব্যবহার করলেও সব ধরনের পণ্য সব চুলের জন্য সমান কার্যকর হয় না। তাই প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে ঘরেই তৈরি করা ভেষজ তেল হতে পারে চুলের যত্নের নিরাপদ ও কার্যকর সমাধান। সহজ কিছু উপকরণ ব্যবহার করেই বানানো যায় এমন কয়েকটি তেল, যা গরমেও চুলকে রাখবে সতেজ ও স্বাস্থ্যোজ্জ্বল।
অ্যালো ভেরা ও নারকেল তেল
শুষ্ক ও খুশকিপ্রবণ চুলের জন্য অ্যালো ভেরা ও নারকেল তেলের মিশ্রণ বেশ উপকারী। অ্যালো ভেরা মাথার ত্বককে আর্দ্র রাখে এবং চুলের রুক্ষতা কমাতে সাহায্য করে।
এই তেল তৈরি করতে এক কাপ নারকেল তেলের সঙ্গে আধ কাপ অ্যালো ভেরা জেল মিশিয়ে কম আঁচে কিছুক্ষণ গরম করতে হবে। মিশ্রণ ঠান্ডা হলে ছেঁকে কাচের বোতলে সংরক্ষণ করা যায়। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুল নরম ও মসৃণ থাকে।
জবা ফুল ও কারিপাতার তেল
জবা ফুল প্রাকৃতিক কন্ডিশনার হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে কারিপাতা চুলের অকালপক্বতা কমাতে সাহায্য করে।
তেল বানাতে কয়েকটি লাল জবা ফুল ও এক মুঠো কারিপাতা বেটে নারকেল বা তিলের তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। তেলের রং বদলালে নামিয়ে ঠান্ডা করে ব্যবহার করা যায়। সপ্তাহে অন্তত দু’বার ব্যবহার করলে চুলে উজ্জ্বলতা ফিরে আসে।
আমলকি ও মেথির তেল
চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং খুশকি কমাতে আমলকি ও মেথির তেল খুবই কার্যকর। আমলকিতে থাকা ভিটামিন সি চুলের পুষ্টি জোগায়, আর মেথি মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে।
শুকনো আমলকি ও মেথি দানা গুঁড়ো করে নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে তাতে কিছু কারিপাতা দিয়ে ফুটিয়ে নিতে হবে। মিশ্রণ ঘন হয়ে এলে ঠান্ডা করে ছেঁকে সংরক্ষণ করুন। নিয়মিত ব্যবহারে চুলের জেল্লা বাড়ে।
ল্যাভেন্ডার ও ক্যাস্টর অয়েল
ক্যাস্টর অয়েল ঘন হওয়ায় এটি নারকেল তেলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা ভাল। এই তেল চুলকে নরম ও মসৃণ রাখতে সাহায্য করে।
দুই চামচ ক্যাস্টর অয়েলের সঙ্গে পাঁচ চামচ নারকেল তেল হালকা গরম করে তাতে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মেশাতে হবে। সপ্তাহে কয়েক দিন এই তেল ব্যবহার করলে চুলে স্বাভাবিক কোমলতা বজায় থাকে।
কেন ঘরোয়া ভেষজ তেল উপকারী?
ঘরে তৈরি তেলে সাধারণত কৃত্রিম রাসায়নিক থাকে না। ফলে মাথার ত্বকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা কম থাকে। পাশাপাশি নিজের চুলের ধরন অনুযায়ী উপকরণ বেছে নেওয়ার সুবিধাও পাওয়া যায়। নিয়মিত তেল মালিশ করলে রক্তসঞ্চালন বাড়ে, চুলের গোড়া শক্ত হয় এবং গরমের ক্ষতিকর প্রভাব থেকেও অনেকটা সুরক্ষা মেলে।