পশ্চিমবঙ্গে মদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজ্যের মদ ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে পরিবহণ খরচ, লোডিং-আনলোডিং চার্জসহ বিভিন্ন খাতে তাঁদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করা হয়েছে, যা সরকারি নিয়মের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ ছিল না। ব্যবসায়ীদের দাবি, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে এই ধরনের আদায়ের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
এই অভিযোগ সামনে এনে আবগারি দফতরের কাছে তদন্তের আবেদন জানিয়েছে মদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন ‘সোসাইটি ফর দ্য ওয়েলফেয়ার অফ ওয়েস্ট বেঙ্গল ফরেন লিকার লাইসেন্সিজ’। সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক চিঠিতে দাবি করা হয়েছে যে, খুচরো বিক্রেতাদের কাছে মদ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে চালু থাকা ব্যবস্থার নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি।
কী অভিযোগ তুলছেন ব্যবসায়ীরা?
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী, রাজ্যে চালু থাকা ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো’ ব্যবস্থার অধীনে পাইকারি সরবরাহকারীদের নিজেদের খরচেই খুচরো দোকানগুলিতে মদ পৌঁছে দেওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে খুচরো বিক্রেতাদের কাছ থেকেই অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ।
বিশেষ করে বিয়ার সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি বোতল বা ক্যানের জন্য নির্দিষ্ট অঙ্কের পরিবহণ খরচ নেওয়া হত বলে দাবি করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি ও দেশি মদের ক্ষেত্রেও লোডিং এবং আনলোডিং ফি-র নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের বক্তব্য, এই অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে অধিকাংশ সময় কোনও রসিদ, বিল বা আনুষ্ঠানিক নথি দেওয়া হত না। ফলে ব্যবসায়ীদের পক্ষে পরবর্তীতে সেই লেনদেনের প্রমাণ দেখানোও কঠিন হয়ে পড়ে।
রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ
সংগঠনের প্রতিনিধিদের দাবি, সরকারি কর ও অন্যান্য বৈধ চার্জের বাইরে কিছু রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জন্যও অর্থ প্রদান করতে বাধ্য করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে এখনও পর্যন্ত কোনও লিখিত বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা হয়নি।
ব্যবসায়ীদের মতে, অতীতে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। তাই বর্তমানে তাঁরা পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য সামনে আনার দাবি জানিয়েছেন।
তদন্ত ও সংস্কারের দাবি
মদ ব্যবসায়ীদের সংগঠন আবগারি দফতরের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
– অভিযোগিত অর্থ আদায়ের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত।
– অনুমোদনহীন পরিবহণ ও ডেলিভারি চার্জ আদায় অবিলম্বে বন্ধ করা।
– মদ সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বৃদ্ধি।
– খুচরো ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানোর উদ্যোগ।
তাঁদের মতে, স্বচ্ছ নিয়ম মেনে সরবরাহ ব্যবস্থা পরিচালিত হলে ব্যবসায়ী এবং সরকারের উভয়েরই লাভ হবে।
‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো’ মডেলের পটভূমি
রাজ্যের মদ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে ২০২১ সালে ‘ডিস্ট্রিবিউটর-ডিপো’ মডেল চালু করা হয়েছিল। এর আগে সরকার পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ স্টেট বেভারেজেস কর্পোরেশন লিমিটেডের মাধ্যমে সরবরাহের ব্যবস্থা কার্যকর ছিল।
সরকারের বক্তব্য ছিল, নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রণ শক্তিশালী করা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল করা সম্ভব হবে। তবে বর্তমানে ব্যবসায়ীদের একাংশের অভিযোগ ঘিরে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ও বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এখন নজর থাকবে আবগারি দফতর অভিযোগগুলির প্রেক্ষিতে কী পদক্ষেপ নেয় এবং তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রতিষ্ঠিত হয় তার দিকে।

Hello friends, Myself Biplab. I have been writing horoscopes since 2019. Since 2022, I have also been writing about entertainment, lifestyle, and trending news.