জরায়ুমুখের ক্যানসার নারীদের মধ্যে অন্যতম সাধারণ ক্যানসার। এই রোগের ঝুঁকি কমাতে ভারতীয় গবেষকেরা একটি নতুন এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট তৈরি করেছেন, যা ক্যানসারের জন্য দায়ী উচ্চ-ঝুঁকির হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV)-এর উপস্থিতি প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।
এই প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হল, ভাইরাসের সংক্রমণ গুরুতর রূপ নেওয়ার আগেই তা চিহ্নিত করা, যাতে সময়মতো চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে ক্যানসারের সম্ভাবনা কমানো যায়।
কীভাবে কাজ করে নতুন পরীক্ষা?

নতুন পরীক্ষাটি ডিএনএ-ভিত্তিক বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করে। রোগীর নমুনায় থাকা ভাইরাসের জিনগত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করে এটি উচ্চ-ঝুঁকির স্ট্রেন শনাক্ত করতে পারে। এর ফলে ক্যানসারের ঝুঁকি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে চিকিৎসকেরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচলিত স্ক্রিনিং পদ্ধতির তুলনায় এই প্রযুক্তি দ্রুত ফল দিতে পারে এবং ঝুঁকিপূর্ণ সংক্রমণ নির্ণয়ে আরও কার্যকর হতে পারে।
কারা এই পরীক্ষা করাতে পারেন?
আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ বছর বা তার বেশি বয়সি নারীদের নিয়মিত এইচপিভি-ভিত্তিক স্ক্রিনিং করানো উপকারী হতে পারে। বিশেষ করে যাঁদের পরিবারে জরায়ুমুখের ক্যানসার বা অন্যান্য স্ত্রী-রোগজনিত ক্যানসারের ইতিহাস রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শে এই ধরনের পরীক্ষা অতিরিক্ত সুবিধা দিতে পারে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই উদ্যোগ?
জরায়ুমুখের ক্যানসার সাধারণত ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। তাই ঝুঁকির কারণ আগেভাগে শনাক্ত করা গেলে রোগ প্রতিরোধ বা প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা শুরু করা সহজ হয়। নতুন দেশীয় প্রযুক্তির ফলে কম খরচে উন্নত স্ক্রিনিং পরিষেবা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মনে রাখবেন
এইচপিভি ডিএনএ টেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হলেও, এটি চিকিৎসকের পরামর্শের বিকল্প নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রয়োজন অনুযায়ী স্ক্রিনিং এবং এইচপিভি টিকাকরণ—এই তিনটি পদক্ষেপ জরায়ুমুখের ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.