পাকিস্তানে নিষিদ্ধ সেই নাটকেই তৈরি সানি-আমিরের ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’!

দেশভাগের ইতিহাসকে কেন্দ্র করে আবারও বড় পর্দায় আসতে চলেছে এক আবেগঘন ও মানবিক গল্প। আমির খান প্রোডাকশনের নতুন পিরিয়ড ড্রামা ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ নির্মিত হচ্ছে অধ্যাপক আসগর ওয়াজাহাতের বহুল প্রশংসিত নাটক ‘জিস লাহোর নাই ভেখিয়া, ও জামিয়া ই নাই’-এর ভাবনা থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে। দীর্ঘদিন ধরে এই নাটকটি ভারত ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মঞ্চস্থ হয়ে দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছে। তবে সংবেদনশীল বিষয়বস্তুর কারণে পাকিস্তানে এটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং বিভিন্ন সময়ে এর মঞ্চায়নের ওপর নিষেধাজ্ঞাও জারি হয়েছিল বলে জানা যায়।

ছবির গল্পের প্রেক্ষাপট ১৯৪৭ সালের দেশভাগ-পরবর্তী লাহোর। সেই অস্থির সময়ে লখনউ থেকে একটি মুসলিম পরিবার লাহোরে এসে বসতি গড়ে। তাদের থাকার জন্য বরাদ্দ হয় একটি বড় হাভেলি, যা দেশভাগের সময় এক হিন্দু পরিবার ফেলে চলে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হয়।

কিন্তু নতুন বাসিন্দারা সেখানে গিয়ে এক অপ্রত্যাশিত বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তারা দেখতে পায়, বাড়িটির ভেতরে এখনও বসবাস করছেন এক বৃদ্ধা হিন্দু মহিলা। তিনি নিজের বাড়ি ছেড়ে যেতে রাজি নন এবং দৃঢ়ভাবে দাবি করেন, এই হাভেলিই তাঁর পরিচয় ও অস্তিত্বের শেষ আশ্রয়।

এভাবেই সম্পত্তি নিয়ে শুরু হওয়া দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে রূপ নেয় দেশভাগের ক্ষত, বাস্তুচ্যুত মানুষের যন্ত্রণা, পরিচয়ের সংকট এবং ভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠা গভীর মানবিক সম্পর্কের গল্পে। বিভাজনের ভয়াবহতার মাঝেও সহাবস্থান, সহমর্মিতা এবং মানুষে মানুষে সংযোগের এক অসাধারণ বার্তা তুলে ধরে এই কাহিনি।

নাটকটির শেষ অংশ নিয়েই মূলত বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল। কাহিনিতে বৃদ্ধা মহিলার মৃত্যুর পর স্থানীয় এক ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব মুসলিম পরিবারটিকে পরামর্শ দেন, যেন তাঁর শেষকৃত্য হিন্দু ধর্মীয় রীতি মেনেই সম্পন্ন করা হয়। এই মানবিক অবস্থানই একসময় বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল।

রাজকুমার সন্তোষীর পরিচালনায় নির্মিত ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ ইতিহাসের অন্যতম বেদনাদায়ক অধ্যায়কে ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও মানবিকতার আলোকে নতুনভাবে তুলে ধরতে চলেছে। ছবিটির মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর এক বিরল সমীকরণও দেখা যাবে—একই প্রযোজনায় একসঙ্গে যুক্ত হয়েছেন সানি দেওল এবং আমির খান।

তারকা-সমৃদ্ধ এই ছবিতে অভিনয় করছেন শাবানা আজমি, প্রীতি জিন্টা, করণ দেওল, আলি ফজল, অভিমন্যু সিং, খুশি হাজারে এবং কনিকা কাপুর। ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন অস্কারজয়ী এ আর রহমান এবং গীত রচনা করছেন জাভেদ আখতার। সব মিলিয়ে ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ শুধু দেশভাগের ইতিহাস নয়, বরং বিভেদের মধ্যেও মানবিকতার জয়গান তুলে ধরার এক বড় সিনেম্যাটিক প্রয়াস হতে চলেছে।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক