ইন্টারনেটে বট বা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় অনলাইন নিরাপত্তা ও পরিচয় যাচাইয়ের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে গুগল। এতদিন ওয়েবসাইটে প্রবেশ বা বিভিন্ন পরিষেবা ব্যবহারের সময় ব্যবহারকারীদের ‘ক্যাপচা’ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হতো যে তাঁরা মানুষ, কোনও স্বয়ংক্রিয় প্রোগ্রাম নন। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং উন্নত অটোমেশন প্রযুক্তির কারণে সেই প্রচলিত পদ্ধতির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এই পরিস্থিতিতে গুগল এমন একটি নতুন ব্যবস্থা পরীক্ষার কথা জানিয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারীর হাতের নড়াচড়া বিশ্লেষণ করে তাঁর মানবিক উপস্থিতি যাচাই করা হবে। নতুন পদ্ধতিতে কোনও ওয়েবসাইট বা পরিষেবায় প্রবেশের সময় ব্রাউজার প্রথমে ক্যামেরা ব্যবহারের অনুমতি চাইতে পারে। অনুমতি দিলে ব্যবহারকারীর হাতের সংক্ষিপ্ত ভিডিও ধারণ করা হবে এবং তা বিশ্লেষণের জন্য পাঠানো হবে।
জানা গিয়েছে, এই প্রযুক্তি হাতের ২১টি নির্দিষ্ট ল্যান্ডমার্ক বা বৈশিষ্ট্য পর্যবেক্ষণ করে বুঝতে চেষ্টা করবে, ভিডিওটি কোনও প্রকৃত মানুষের নড়াচড়া কি না। গুগলের দাবি, এই প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র মানুষ ও বটের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা। ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পরিচয় শনাক্ত করা বা মুখের তথ্য সংগ্রহ করা এর লক্ষ্য নয়।

সংস্থার পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ভিডিও রেকর্ডিংয়ের সময় কোনও অডিও সংগ্রহ করা হবে না। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হওয়ার পর ভিডিওটিও সংরক্ষণ না করে মুছে ফেলা হবে। ফলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকবে বলেই তাদের দাবি।
তবে এই নতুন প্রযুক্তি চালু হলেও প্রচলিত ক্যাপচা ব্যবস্থা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হচ্ছে না। ছবি শনাক্তকরণ বা নির্দিষ্ট বস্তুকে চিহ্নিত করার মতো পরিচিত পদ্ধতিগুলিও চালু থাকবে। অর্থাৎ যাঁরা ক্যামেরা ব্যবহার করতে অনিচ্ছুক, তাঁরা আগের মতোই বিকল্প উপায়ে নিজেদের মানবিক পরিচয় প্রমাণ করতে পারবেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বহু বট অত্যন্ত সহজেই ছবি-ভিত্তিক ক্যাপচা সমাধান করতে সক্ষম। ফলে শুধুমাত্র ছবি চিহ্নিত করার পরীক্ষার উপর নির্ভর করা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। সেই কারণেই মানুষের স্বাভাবিক শারীরিক অঙ্গভঙ্গি বা হাতের নড়াচড়াকে যাচাইয়ের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে ঘোষণার পর থেকেই গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক ব্যবহারকারী। তাঁদের আশঙ্কা, ক্যামেরা-নির্ভর যাচাই পদ্ধতি ভবিষ্যতে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। যদিও গুগল স্পষ্ট জানিয়েছে, এই ফিচার সম্পূর্ণ ঐচ্ছিক এবং ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই প্রযুক্তিটি তৈরি করা হচ্ছে।
বটের ক্রমবর্ধমান আধিপত্যের যুগে অনলাইন পরিচয় যাচাইয়ের ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ প্রযুক্তি জগতে নতুন অধ্যায় খুলতে পারে। তবে ব্যবহারকারীদের আস্থা অর্জন করাই হবে এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.