২ বছরের আগেই মোবাইলের নেশা! শিশুর কথা বলা ও মস্তিষ্কের বিকাশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

স্মার্টফোন এখন বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জীবনেও দ্রুত জায়গা করে নিয়েছে। অনেক পরিবারেই দেখা যায়, শিশুকে খাওয়ানো, কান্না থামানো বা কিছুক্ষণ শান্ত রাখার জন্য মোবাইল ফোনে কার্টুন কিংবা ভিডিও চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে মুহূর্তের জন্য সুবিধা মিললেও দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে পড়তে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ২ থেকে ৩ বছরের কম বয়সি যেসব শিশু প্রতিদিন দীর্ঘ সময় মোবাইল বা ট্যাবের স্ক্রিনে চোখ রাখে, তাদের ভাষা শেখার গতি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে দিনে কয়েক ঘণ্টা স্ক্রিন ব্যবহার করলে শিশুর কথা বলতে শেখা, নতুন শব্দ আয়ত্ত করা এবং অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা গড়ে উঠতে দেরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

গবেষকদের মতে, জীবনের প্রথম কয়েক বছর শিশুর মস্তিষ্ক অত্যন্ত দ্রুত বিকশিত হয়। এই সময় সে চারপাশের মানুষ, পরিবেশ, শব্দ, মুখভঙ্গি ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখে। কিন্তু বাস্তব যোগাযোগের বদলে যদি বেশিরভাগ সময় স্ক্রিনের সামনে কাটে, তবে শেখার এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

২ বছরের আগেই মোবাইলের নেশা! শিশুর কথা বলা ও মস্তিষ্কের বিকাশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম
২ বছরের আগেই মোবাইলের নেশা! শিশুর কথা বলা ও মস্তিষ্কের বিকাশে বড় প্রভাব ফেলতে পারে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম

বিশেষজ্ঞদের আরও দাবি, ছোটদের মস্তিষ্ক ও শরীর এখনও সম্পূর্ণ বিকশিত না হওয়ায় তারা বিভিন্ন পরিবেশগত প্রভাবের প্রতি বেশি সংবেদনশীল। তাই দীর্ঘ সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার তাদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। যদিও মোবাইল ফোনের রেডিয়েশন নিয়ে এখনও বিভিন্ন গবেষণা চলছে এবং সব বিষয়ে চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক ঐকমত্য তৈরি হয়নি, তবুও অল্প বয়সে অপ্রয়োজনীয় স্ক্রিন ব্যবহার সীমিত রাখার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু ভাষা শেখাই নয়, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুর মনোযোগের উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। দ্রুত পরিবর্তনশীল ছবি, উজ্জ্বল আলো এবং একের পর এক ভিডিও দেখার অভ্যাস অনেক সময় বাস্তব জগতের প্রতি আগ্রহ কমিয়ে দেয়। ফলে খেলাধুলা, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলা কিংবা সামাজিক মেলামেশার মতো গুরুত্বপূর্ণ অভ্যাস গড়ে ওঠা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, শিশুর আবদার সামলাতে বা খাওয়ানোর সুবিধার জন্য অভিভাবকেরা হাতে মোবাইল তুলে দেন। এতে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ সহজ হলেও ধীরে ধীরে শিশুর স্ক্রিনের উপর নির্ভরশীলতা তৈরি হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলা, গল্প শোনানো, গান গাওয়া, বই পড়ে শোনানো এবং মুক্তভাবে খেলাধুলার সুযোগ করে দেওয়া।

শিশুর সুস্থ বিকাশ নিশ্চিত করতে চিকিৎসকেরা বয়স অনুযায়ী স্ক্রিন ব্যবহারের সময় সীমিত রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশি সময় কাটানো, বাইরের খেলাধুলা, সৃজনশীল কার্যকলাপ এবং সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো শিশুর ভাষা, বুদ্ধি ও সামাজিক দক্ষতা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অতএব, মোবাইল ফোনকে শিশুর দেখভালের সহজ উপায় হিসেবে ব্যবহার না করে, প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত ব্যবহার এবং বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়াই শিশুর সুস্থ মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

শুধু হজম শক্তি বাড়িয়ে দেয় না, জোয়ান খেলে শরীরের অনেক সমস্যা নিবারণ হয় মুখরোচক বাদাম চিক্কি খেতে দারুন, বাড়িতেই তৈরী হবে, জানুন রেসিপি এইভাবে তেজপাতা পোড়ালে দুশ্চিন্তা কেটে যাবে 5 Best Night Creams ৪ মাসের শিশু ২৪০ কোটির মালিক