রাগি বা ফিঙ্গার মিলেট এখন আর শুধু স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় সীমাবদ্ধ নেই। পুষ্টিগুণে ভরপুর এই শস্য ধীরে ধীরে ভারতজুড়ে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। একসময় মূলত দেশের পশ্চিম ও দক্ষিণাঞ্চলে রাগির ব্যবহার বেশি দেখা গেলেও, এখন বাংলার রান্নাঘরেও এর কদর বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন রাগি দিয়ে কেবল খিচুড়ি বা উপমাই তৈরি করা যায়। কিন্তু বাস্তবে এই শস্য দিয়ে নানা ধরনের সুস্বাদু ও ঐতিহ্যবাহী খাবার বানানো সম্ভব।
রন্ধনশিল্পী সঞ্জীব কপূরের পরামর্শ অনুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে রাগি দিয়ে তৈরি কয়েকটি জনপ্রিয় পদের মধ্যে রয়েছে কর্নাটকের রাগি মুদ্দে, তামিলনাড়ুর রাগির পকোড়া এবং ওড়িশার মাড়ুয়া চাকুলি পিঠে।
কর্নাটকের ঐতিহ্যবাহী রাগি মুদ্দে

গ্রামীণ কর্নাটকে রাগি মুদ্দে অত্যন্ত পরিচিত একটি খাবার। এটি তৈরি করতে প্রথমে জল ফুটিয়ে তাতে সামান্য নুন ও অল্প ঘি মেশানো হয়। এরপর ধীরে ধীরে রাগির আটা মিশিয়ে অনবরত নাড়তে হয় যাতে দলা না বাঁধে। কয়েক মিনিট ঢেকে রান্না করার পর মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে গরম অবস্থাতেই গোল বলের আকারে তৈরি করা হয়। চাটনি, সাম্বর কিংবা আচার দিয়ে এই পদ খেতে দারুণ লাগে।
মুচমুচে রাগির পকোড়া
বিকেলের জলখাবারে রাগির পকোড়া হতে পারে স্বাস্থ্যকর একটি বিকল্প। রাগির আটার সঙ্গে চালের আটা, পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা, আদা, কারিপাতা, হিং এবং নুন মিশিয়ে অল্প জল দিয়ে শক্ত মিশ্রণ তৈরি করতে হয়। এরপর গরম তেলে ছোট ছোট পকোড়ার মতো ভেজে নিলেই তৈরি হয়ে যায় মুচমুচে এই খাবার। গরম চায়ের সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বেড়ে যায়।
ওড়িশার মাড়ুয়া চাকুলি পিঠে
চাকুলি পিঠে দেখতে অনেকটা দোসা বা উত্তপমের মতো হলেও এতে চালের বদলে ব্যবহার করা হয় রাগি। প্রথমে বিউলির ডাল ভিজিয়ে বেটে নিতে হয়। সেই বাটার সঙ্গে রাগির আটা, নুন ও প্রয়োজনমতো জল মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ব্যাটার তৈরি করা হয়। পরে তাওয়ায় পাতলা করে ছড়িয়ে দু’পিঠ সেঁকে নিলেই তৈরি নরম চাকুলি পিঠে। এটি আলুর তরকারি, চাটনি কিংবা গুড়ের সঙ্গে খেতে বেশ সুস্বাদু।
রাগি স্বাভাবিকভাবেই খাদ্যআঁশ, ক্যালশিয়াম এবং বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজে সমৃদ্ধ। তাই প্রতিদিনের একঘেয়ে ডায়েটের বদলে এই ধরনের আঞ্চলিক পদগুলি খাদ্যতালিকায় যোগ করলে যেমন স্বাদের বৈচিত্র্য আসে, তেমনই পুষ্টির ঘাটতিও অনেকটাই পূরণ হতে পারে।
Sumi has been waiting lifestyle, vastu Tips since 2026.